লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ৩৬৫ জন গ্রেপ্তার
শনিবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের পার্লামেন্ট স্কয়ারে জমায়েতে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগে মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিবিসি ও রয়টার্স জানায়, ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ নামের একটি অধিকার সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত গ্রুপটির সমর্থনে সমাবেশ ডাকেছিল। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসদমন আইনে জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে; এর পক্ষে প্রচার বা সদস্যপদ এখন অপরাধ, সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল হতে পারে। শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৫০০–৬০০ মানুষ জড়ো হলেও তাদের বড় অংশই দর্শক ও সাংবাদিক ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। আরও সাতজনকে পুলিশের ওপর হামলাসহ ভিন্ন অভিযোগে ধরা হয়েছে, তবে গুরুতর আহত কেউ নেই।
পটভূমি
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানি এলবিট সিস্টেমস ও সামরিক সরঞ্জামবাহী স্থাপনার বিরুদ্ধে সরাসরি কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। গত জুনে গ্রুপের কর্মীরা রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ওয়েলসের একটি ঘাঁটিতে ঢুকে প্রশিক্ষণ বিমানে ক্ষতি সাধন করে, যা সরকারকে নানা মহলে চাপের মুখে ফেলে। এর পরেই পার্লামেন্ট ‘সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত’ অভিযোগ তুলে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করতে সংগঠনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরিকে আদালত আপিলে যেতে অনুমতি পেয়েছেন, তবে শুনানির দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• গ্রেপ্তার: ৩৬৫ জন (প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের অভিযোগ)।
• অতিরিক্ত গ্রেপ্তার: ৭ (এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৫)।
• সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সাজা: ১৪ বছর কারাদণ্ড (নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন দেখালে)।
• জমায়েতের আকার: ৫০০–৬০০ (বিবিসি অনুমান)।
• নিষিদ্ধকরণের সময়: জুলাই ২০২4।
প্রতিক্রিয়া
মেট্রোপলিটন পুলিশ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছে, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থনে প্ল্যাকার্ড, ব্যাজ বা স্লোগান দেখালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’ ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস বলেছে, ‘সাংবাদিকতা ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আক্রমণ’ চালানো হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে গ্রেপ্তারিকে ‘অল্ট্রা–বিস্তৃত সন্ত্রাসবাদ আইনের অপব্যবহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সহিংসতার জন্য উৎসাহ জোগানো কোনোটিই স্বাধীন মতপ্রকাশের মধ্যে পড়ে না।’
বিশ্লেষণ
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টিনিয়ান সংহতি মিছিলে নিয়মিত লাখো মানুষ বের হচ্ছেন। সরকার বলছে, ইহুদি বিদ্বেষ ও সহিংস উস্কানি থামাতে কঠোরতা জরুরি। সমালোচকেরা বলছেন, ভিন্নমত দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। ২০০০ সালের টেররিজম অ্যাক্ট অনুযায়ী মুখ্য ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ ছাড়াও যে কোনো ‘সহায়তা বা সমর্থন’ অপরাধ। আইনটি এতটাই বিস্তৃত যে একটি টুইট, ব্যাজ বা কেবল স্লোগান পর্যন্ত অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে—শনিবারের আটক অভিযানের মূল ভিত্তি সেটিই। এতে বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমা কোথায়, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
এরপর কী
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ ধৃতকে সোমবারের মধ্যেই আদালতে হাজির করা হবে; কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না হলে জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, ‘সমর্থনের প্রমাণ’ হিসেবে পুলিশ মূলত প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের ছবি ব্যবহার করবে, যা আদালতে কতটা টিকে থাকে সেটিই নজরে রাখা উচিত। এদিকে হুদা আম্মোরির আইনি চ্যালেঞ্জ শুনানির তারিখ নির্ধারণ হলে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টের রায় গঠনমূলক হতে পারে। ফলে গ্রুপটি নিষিদ্ধ থাকবে নাকি আইনি মারপ্যাঁচে ফিরে আসবে, তা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর।

