লক্ষ্মীপুরে ১৬ মামলার আসামি ‘সন্ত্রাসী’ আলমগীর গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

লক্ষ্মীপুরে ১৬ মামলার আসামি ‘সন্ত্রাসী’ আলমগীর গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর গ্রামে সোমবার ভোরে সেনাবাহিনী ও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দীর্ঘদিনের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আলমগীর হোসেন (৪০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চারটি অস্ত্র, একটি হত্যা, দুটি মাদকসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। একই দিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও খুনের ভয়ে দীর্ঘ বছর তারা আতঙ্কে ছিলেন; গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

পটভূমি

২০১৩ সালে মাসুম বিল্লাহ লাদেন বাহিনীতে থেকে সন্ত্রাসের শুরু করেন আলমগীর। ২০১৫ সালে আবুল কাশেম জিহাদীর দলে যোগ দিয়ে বশিকপুর–চাটখিল এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক রক্তক্ষয়ী ঘটনার মূল আসামি তিনি। উচ্চ আদালত থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে বেরিয়ে এসে আর হাজিরা না দিলে পুলিশ ফের তৎপর হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

মোট মামলা: ১৬টি

অস্ত্র মামলা: ৪

মাদক মামলা: ২

বয়স: ৪০ বছর

মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার পরিমাণ (শুধু একটি অভিযোগে): ৭০,০০০ টাকা

সর্বশেষ গ্রেপ্তার: ৯ মে ২০২৩; পুনরায় ১১ আগস্ট ২০২৫ (বোরো ফসল নষ্টের মৌসুমের ভোরে অভিযান)

প্রতিক্রিয়া

গ্রেপ্তারের খবর ছড়াতেই উত্তর জয়পুর, বশিকপুর ও পাশের চাটখিলে দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে খুলেছে। ভুক্তভোগী মোরশেদ আলম ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, “মুক্তিপণ দিয়ে বেঁচেছিলাম, এবার দ্রুত বিচার চাই।” চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি ফয়জুল আজীম নোমান জানান, “আদালত থেকে দ্রুততম সময়ে রিমান্ড চেয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।” তবে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দেরি হলে জামিনে বেরিয়ে নতুন করে সন্ত্রাসের ঝুঁকি থেকেই যায়।

এরপর কী

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছ থেকে অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র ও অর্থের উৎস জানতে রিমান্ড চাইবে ডিবি। ইতিমধ্যে তার সহযোগী ‘কদু আলমগীর’ ও ফরিদ উদ্দিনসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৬ মামলার সমন্বিত অভিযোগপত্র দ্রুত জমা দিতে পারলে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করে এক বছরের মধ্যে রায় দেওয়া সম্ভব।

বৃহত্তর চিত্র

চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর উপকূলবর্তী অঞ্চলে গত তিন মাসে সেনাবাহিনী-পুলিশের সমন্বিত ১২টি অভিযানে ৯৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও ৪৮ জন সন্ত্রাসী আটক হয়েছে (পুলিশ সদর দফতরের তথ্য)। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাদক ও ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বাহিনীগুলো রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া পেয়ে শক্তি বাড়িয়েছে। নিয়মিত যৌথ অভিযান ও দ্রুত বিচার না হলে এসব ‘পকেট টেরর’ দমনে টেকসই ফল মিলবে না।

শেষ কথা

আলমগীরের গ্রেপ্তার এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিলেও সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টা টেকসই করতে হলে মহাসড়ক দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকের উৎসে আঘাত এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে—বলছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

More From Author

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ কোটি টাকার মডেল মসজিদ ঘিরে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘ওয়্যারলেস টেকনিশিয়ান’ নিয়োগ পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *