রাষ্ট্র কাঠামোর আগে ‘মানসিকতার সংস্কার’ জরুরি বলে মত দিলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার, ২৮ এপ্রিল ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের মানসিকতা বদলানো ছাড়া রাষ্ট্র কাঠামোর কোনো সংস্কার টেকসই হবে না। ‘মনের পরিবর্তন’ ছাড়া গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণের জন্য অভিযুক্ত করে সালাহউদ্দিন আরও জানান, বিএনপি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এমন কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার পথ বন্ধ করতে চায়। (সূত্র: দৈনিক আজাদী/বিডিনিউজ)
প্রেক্ষাপট
দলটিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন শেষ করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। এর পর থেকেই বিএনপি ‘রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার’ ও ২৭ দফা রূপরেখা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। দলটির দাবি, সংসদীয় কাঠামো ও নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোনো আস্থা হারিয়েছে, তাই বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব ক্ষেত্রে সংস্কার দরকার। সালাহউদ্দিন আহমদের সর্বশেষ বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও ব্যক্তিগত ও নৈতিক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে নাগরিক আচরণ ও শাসকের মনোভাবকে মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
অধ্যাপক আলী রিয়াজ (ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজনীতি-প্রশাসনের সংস্কার কেবল আইন দিয়ে নয়, অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতির মাধ্যমেই সম্ভব।’ তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘বিএনপি আগে নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র নিশ্চিত করুক, তারপর অন্যের পাঠ পড়াক।’ সরকারি পর্যায় থেকে অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।
বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘মানসিকতার পরিবর্তন’ কথাটি জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে পরিমাপ কঠিন। শেখ হাসিনা সরকার যখন উন্নয়ন-অর্জন সামনে রাখছে, তখন বিএনপি পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থায় ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরছে। এর মূল কৌশল—নাগরিকদের যুক্ত করে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো। তবে দলটি মাঠে সংগঠন, গণমাধ্যমের পাঠকৃত ও আদালত নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই বাধার মুখে পড়ছে। তাত্ত্বিকভাবে নাগরিক–সরকার দ্বৈত দায়িত্বের কথা বললেও রাজনৈতিক মেরুকরণে সেই আলোচনা প্রায়ই দলীয় তরজায় আটকে যায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিএনপি সূত্র জানায়, মে মাসে বিভাগীয় সমাবেশ ও অনলাইন আলোচনা সিরিজে ‘মানসিকতার সংস্কার’ ও ২৭ দফা রূপরেখা জনপ্রিয় করার কর্মসূচি আছে। দলটি সমমনা দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে চায়। সামনের বাজেট অধিবেশন ঘিরে দলটি বিকল্প অর্থনৈতিক প্রস্তাবও দিতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ‘নাগরিকের অধিকার’ ইস্যুটি তোলা হবে বলে দলটি জানিয়েছে।

