যমুনাপাড়ের ভরসা মাত্র একটি বাঁশের সাঁকো, ১৫ বছরেও সেতু নেই
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথায় যমুনার শাখা নদীর ওপর ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকোই চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কয়েক বছর আগে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছায় সাঁকোটি বানিয়েছিলেন, তবে কাঠ-বাঁশ পচে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে বৃদ্ধ, শিশু, রোগী ও শিক্ষার্থীদের। এলাকাবাসী ১৫ বছর ধরে পাকা সেতুর দাবি জানালেও স্থানীয় সরকার বিভাগ বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, জানিয়েছে রবিবার প্রকাশিত ডেইলি নয়া দিগন্তের একটি প্রতিবেদন।
পটভূমি
মাদারগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী বগুড়ার সারিয়াকান্দি মিলিয়ে মোট চারটি ইউনিয়ন—বালিজুড়ি, কড়ইচড়া, কাজিরচর ও চন্দনবাইশা—এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে। নদী পার হতে নৌকা চলে না, সড়কও নেই। ২০০৮ সালের দিকে প্রথমে নড়বড়ে কাঠের পাটাতন দিয়ে সাঁকোটি বানানো হয়; পরে নিজেরা টাকা তুলে কয়েকবার মেরামত করেছেন এলাকাবাসী। কিন্তু বর্ষায় পানির তোড়, আর সময়ের সঙ্গে কাঠ-বাঁশে পচন ধরায় এখনই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• দৈর্ঘ্য : প্রায় ১০০ মিটার
• ব্যবহারকারী : অন্তত ৫০,০০০ মানুষ
• দাবি চলমান : ১৫ বছর
• শিক্ষার্থী : প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ স্কুল-কলেজপড়ুয়া
• ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত : ৪ (মাদারগঞ্জে ২, সারিয়াকান্দিতে ২)
প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় কৃষক জব্বার আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, "ধানের মৌসুমে প্রতি ডালায় ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পাড় হতে হয়, পা ফসকালেই ডুবে যাবার ভয়।" স্কুলছাত্রী রুমা খাতুন জানান, বৃষ্টি হলে সাঁকোর বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে যায়; তাই অনেকেই ক্লাস মিস করে। দীর্ঘদিনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের নাম উল্লেখ করে পত্রিকাটি দাবি করেছে, তিনি এলাকা থেকে মন্ত্রী হয়েও সেতু নিয়ে উদাসীন ছিলেন। জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা মাত্র এতোটা জানিয়েছেন—"প্রস্তাব পেলে যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেব।"
বিশ্লেষণ
দূরদরাজ এলাকায় ভঙ্গুর অবকাঠামোর চিত্র নতুন নয়। কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত জমি বানানোর ঘটনা (ঢাকা টাইমস, ১০ আগস্ট) বা চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কে সেতু ধসে পড়ে নতুন সেতু নির্মাণে ৮–৯ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত (প্রথম আলো, ১০ আগস্ট) একই দিনে শিরোনাম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলের ছোট নদী ও খালে সেতু না থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই সরাসরি ক্ষতি হয়, অর্থনীতি পিছিয়ে যায়। অথচ এলজিইডির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এসব গ্রামীণ সেতু তালিকায়ই উঠে আসে না।
এরপর কী
এলাকাবাসী চাইছেন দ্রুত জরিপ করে ১৮-২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণ। প্রকৌশলীরা বলছেন, টেকসই সেতু হলে নৌ-যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্কুলে উপস্থিতি—all মিলিয়ে সরাসরি উপকার পাবেন অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও এলজিইডিকে প্রাথমিক নকশা, জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগোলে আগামী অর্থবছরেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব, নইলে আরেকটি বর্ষা পার হতে হবে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোয়।

