ভোট ‘চুরি’ অভিযোগে দিল্লিতে ইসির কার্যালয়ের দিকে বিরোধী এমপিদের পদযাত্রা
সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ এমপি ভারতের সংসদ ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের উদ্দেশে এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতীকী পদযাত্রা শুরু করেন। ‘ভোট চুরি’ স্লোগান লেখা পোস্টার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তাঁরা দাবি করেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে নির্বাচনী কারচুপি ঠেকাতে ইসি ব্যর্থ হয়েছে—or সহযোগিতা করেছে। ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলও মিছিলে যোগ দিয়েছে, ফলে লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী ঐক্যের নতুন বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল রাজধানীতে।
পটভূমি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাহুল গান্ধী একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বিহার, মহারাষ্ট্র ও অন্যান্য রাজ্যে ‘ডিজিটাল ভোটার তালিকা সংশোধনের’ নামে ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ নীতির ওপর এটি সরাসরি আঘাত। ইসি এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বললেও কংগ্রেস দাবি করছে, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ কর্মীরা বুথভিত্তিক সমীক্ষা করে সুবিধামতো নাম কাটছেন। সোমবারের পদযাত্রা সেই অভিযোগ আনুষ্ঠানিক ভাবে কমিশনের সামনে তুলতেই আয়োজন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• অংশগ্রহণকারী এমপি: আনুমানিক ৩০০ জন
• পদযাত্রার দূরত্ব: প্রায় ১ কিলোমিটার
• ভাষাভিত্তিক পোস্টার: ১২টির বেশি ভারতীয় ভাষায়
• ভারতের মোট ভোটার: প্রায় ৯৬ কোটি (ইসির তথ্য)
• পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন: এপ্রিল-মে ২০২৬ (অনুমানিত)
প্রতিক্রিয়া
বিজেপি মুখপাত্র সাম্বিত পাত্র বলেন, ‘ইসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; তাকে কালিমালিপ্ত করতে বিরোধীরা মঞ্চ সাজিয়েছে।’ কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না মিললেও নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং ‘পদযাত্রা কমিশনের স্বাধীন কাজকে প্রভাবিত করতে পারবে না’। আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং বলেন, ‘যে দিন ইসি মানুষের কাছে ডিজিটাল তালিকা উন্মুক্ত করবে, সত্য উন্মোচিত হবে।’
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়া জোট এখনো আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে পারেনি; তবে যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারবিরোধী বয়ানকে এক সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করছে। ২০১৩ সালের ‘নির্বাচনী সংস্কার আইন’ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা অভিযুক্ত হলে নাগরিকদের আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকলেও তা অনলাইনে পর্যাপ্তভাবে দৃশ্যমান নয়। রাহুলের ‘ডিজিটাল তালিকা প্রকাশ’ দাবি সেই ফাঁকাকেই নিশানা করেছে। আবার বিজেপিও বোঝে, ইসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনা বাড়তে পারে; তাই দলটি পাল্টা ‘সংবিধান রক্ষা’ তর্ক তুলে বিরোধীদের আক্রমণ করছে।
এরপর কী
ইন্ডিয়া জোট কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক পেলে ভোটার তালিকার সার্বজনীন অনলাইন অ্যাক্সেস, ইভিএম-ভিভিপ্যাট ম্যাচিং ১০০ শতাংশে উন্নীত করা এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের নিয়োগ পদ্ধতি সংস্কারের দাবি তুলবে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর বাসভবনে সোমবার রাতেই জোট নেতাদের নৈশভোজে ডেকে পরবর্তী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঠিক করবেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরে মুম্বাই, কলকাতা ও হায়দরাবাদে আঞ্চলিক মহাসমাবেশের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

