ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ কোটি টাকার মডেল মসজিদ ঘিরে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ কোটি টাকার মডেল মসজিদ ঘিরে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

সোমবার ১১ আগস্ট দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনটি দুই-এক মাসের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতিতে রয়েছে। উপদেষ্টা জানান, জেলায় নির্মিত ১০টি মডেল মসজিদের কোথাও বড় ধরনের ‘ক্রস মিসটেক’ নেই; সামান্য ত্রুটি দ্রুতই ঠিক করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আধুনিক এই কমপ্লেক্সে পুরুষ-নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা নামাজঘর, লাইব্রেরি, ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বহুমুখী প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা আশা করছেন, ভবনটি সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়াবে পুরো জেলাজুড়ে।

প্রেক্ষাপট

মোদি সরকার ২০১৭ সালে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। এর উদ্দেশ্য—ইসলামি শিক্ষার আধুনিকায়ন, নারীদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সহজ করা এবং প্রবাসফেরত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণসহ সামাজিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতিমধ্যেই উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে ১০টি মসজিদের কাজ শেষ ধাপে রয়েছে।

কিভাবে এই পর্যন্ত এলাম

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে টেন্ডার পাস হওয়ার পর ছয়তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট এ ভবনের নির্মাণ শুরু হয়। দুই দফা করোনাজনিত বিলম্ব ও আসবাব আমদানির জট কাটিয়ে চলতি বছরের জুনে ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ তদারকি ও ডিজাইন বাস্তবায়ন করে, আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• ব্যয়: ১৫ কোটি টাকা

• তল সংখ্যা: ৪ (দুটি সাব-বেজমেন্টসহ)

• একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন: ১,২০০ জন—এর মধ্যে নারী ২০০, প্রতিবন্ধী ৫০

• উদ্ভাবনী সেবা: ১টি ডিজিটাল লাইব্রেরি, ২টি আইটি প্রশিক্ষণ কক্ষ, ১টি মাল্টিপারপাস হলরুম

প্রতিক্রিয়া

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম মসজিদটিকে ‘সামাজিক সংযোগের কেন্দ্র’ বলে আখ্যায়িত করেন। জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মোবারক হোসেন এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান একসঙ্গে উপস্থিত থেকে ‘মধ্য-পথের ইসলামী শিক্ষা’ ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা খাদিজা আক্তার বলেন, “নারীদের জন্য আলাদা জায়গা থাকায় আমরা আর বাড়ি থেকে দূরে জুমায় যেতে ভয় পাব না।”

এরপর কী

গণপূর্ত বিভাগ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ পরীক্ষণ ও ত্রুটি-নিরসন শেষ করবে। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশন জনবল নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা চূড়ান্ত করে অক্টোবরেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্য ধরেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে শিশু ক্বিরাত ক্লাশ, যুব প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা সেমিনার এবং ভূমিহীনদের জন্য তথ্য সহায়তা ডেস্ক চালু করা।

বৃহত্তর চিত্র

দেশজুড়ে ৫৬৪টি মডেল মসজিদের মধ্যে ৪৫০টির বেশি নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশেই এত বৃহৎ পরিসরে সরকারি অর্থায়নে মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তৈরির নজির নেই। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি নিশ্চিত করা গেলে এই অবকাঠামো সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে; অন্যথায় তা কেবল ‘দাগকাটা’ দালানেই সীমাবদ্ধ হতে পারে।

শেষ কথা

চূড়ান্ত গুণগত পরীক্ষায় বড় ত্রুটি না থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মডেল মসজিদ দ্রুতই নামাজি ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য খুলে দেওয়া যাবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের এখন নজর দিতে হবে সেবার মান, নাগরিক অংশগ্রহণ ও অপচয়-মুক্ত রক্ষণাবেক্ষণে—যেন এই ‘মডেল’ সত্যিই অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।

More From Author

পাঁচ শ্রেণির করদাতাকে অনলাইন রিটার্নে ছাড় দিল এনবিআর

লক্ষ্মীপুরে ১৬ মামলার আসামি ‘সন্ত্রাসী’ আলমগীর গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *