প্রিমিয়ার লিগে মজুরি দৌড়: ২০২৫-২৬ মৌসুমে টপ ১০ তারকার পারিশ্রমিক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বেতন পেতে চলেছেন যাঁরা, তাঁদের তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ক্রীড়া-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পোরট্রাক’ এবং তা উদ্ধৃত করেছে রয়টার্স। তালিকায় শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, তাঁর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক ৯ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিভারপুলের মিশরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। তালিকায় আরও আছেন কাসেমিরো, ভার্জিল ভন ডাইক, রাহিম স্টার্লিং, বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জ্যাক গ্রিলিশ, কাই হাভার্টজ ও আর্সেনালের নতুন সাইনিং ওমর মারমুশ।
টপ ১০–এর এই তালিকা লিগের বেতনের বেলুন কীভাবে আরও বড় হচ্ছে—তারই সাম্প্রতিক নজির। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো ইতিমধ্যে ইউরোপের বাকি বাজারকে মজুরি প্রতিযোগিতায় ফেলে রেখেছে, আর নতুন টিভি ও স্পনসর চুক্তি শুরু হবে ২০২5-26 মৌসুম থেকেই।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• হালান্ডের আনুমানিক সাপ্তাহিক বেতন ৮.৫–৯.০০ লাখ পাউন্ড; বাৎসরিক প্রায় ৪৫–৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড।
• সালাহ ৪ লাখ পাউন্ডের সামান্য বেশি পাচ্ছেন, যা লিভারপুলের ইতিহাসে রেকর্ড।
• কাসেমিরো ও স্টার্লিং দু’জনেরই নতুন প্যাকেজ ৩.৫–৩.৮ লাখ পাউন্ডের ঘরে।
• তালিকায় থাকা শেষ ব্যক্তি ওমর মারমুশের সাপ্তাহিক পারিশ্রমিকও ২.৫ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি, ২০২৩-২৪ মৌসুমে যা সিটির কেভিন ডি ব্রুইনার সমপর্যায়ের।
• টপ-১০ মিলিয়ে বাৎসরিক মজুরি ব্যয় ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি, যা স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের শীর্ষ লিগগুলোর সম্মিলিত কয়েকটি ক্লাবের বাজেটের─ও বেশি।
প্রেক্ষাপট
ইপিএলে ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রচারস্বত্ব বাড়ছে। ২০২۵-২৯ নতুন চক্রে শুধু ঘরোয়া টিভি স্বত্ব থেকেই ৬.৭ বিলিয়ন পাউন্ড পাবে লিগ, যা ক্লাবগুলোর কাছে ‘সেলারি ক্যাপ’ আলাপকে অন্তত আরও চার বছর পিছিয়ে দিচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধির আরেক চালিকা শক্তি ক্রিকেটে ‘ফ্রি হিট’ নিশ্চিত করা—মুক্ত ট্রান্সফার। চুক্তির শেষ ছয় মাসে থাকা প্লেয়ারদের ধরে রাখার জন্য ক্লাবগুলো আগেভাগেই বেড়া জোরদার করছে, ফলে পুনরায় চুক্তি করতেই বেতন বাড়াতে হচ্ছে।
বিশ্লেষণ
বেতন তালিকায় পজিশন ভেদে বৈচিত্র্য দেখা যায়। ১০ জনের মধ্যে ফরোয়ার্ড ৪, মিডফিল্ডার ৪ আর ডিফেন্ডার ২ জন। গোলরক্ষকের অনুপস্থিতি দেখাচ্ছে, বাজার এখনও আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দেরই বেশি মূল্য দেয়।
অর্থনীতি বিশ্লেষক সাইমন চেডউইক ‘রয়টার্স’কে বলেন, ‘অন্য সব লিগকে ছাপিয়ে প্রিমিয়ার লিগ এখন গ্লোবাল ট্যালেন্টের ম্যাগনেট। এর বড় কারণ ডলার বা ইউরোর তুলনায় পাউন্ডের স্থিতিশীলতা এবং বাজারের বৈচিত্র্য।’
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—আর্থিক ন্যায্যতা বিধান আইন (এফএফপি) কতটা কার্যকর? ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির ওপর ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়িয়েছে ইপিএল কর্তৃপক্ষ। তবে বড় ক্লাবগুলোর ধারণা, টেলিভিশন ও ডিজিটাল স্ট্রিমিং আয়ে যে প্রবৃদ্ধি আসছে, তা দিয়ে বেতন-ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
এরপর কী
• কর কাঠামো: যুক্তরাজ্যে উচ্চ আয়করের হার ৪৫ শতাংশ। ক্লাবগুলো ভাবছে—বিদেশি খেলোয়াড় ধরে রাখতে ‘ইমেজ রাইটস কম্পানি’ ব্যবহার করে নেট আয় বাড়ানোর পথ আরও প্রশস্ত করতে।
• সম্ভাব্য সেলারি ক্যাপ: ২০২৮-২৯ মৌসুমে ইউরোপীয় ক্লাব সমিতি (ইসিএ) একটি সম্মিলিত বেতন-ছাদ (সেলারি কুড়িন্স) নিয়ে আলোচনার সূচনা করতে পারে, যেখানে বেতন-ব্যয় ক্লাব আয়ের নির্দিষ্ট শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
• তরুণ প্রতিভা: বিশাল মজুরি বিলের চাপে একাডেমি-নির্ভর ক্লাবগুলো (ব্রাইটন, ব্রেন্টফোর্ড) হয়তো তারকা বিক্রি করে টিকে থাকতে চাইবে। এতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জাপান ও বেলজিয়াম থেকে সস্তায় প্রতিভা আমদানির প্রবণতা আরও বাড়বে।
• সমর্থকের চাপ: খরচের ভার সমর্থকদের টিকিট ও মার্চেন্ডাইজের দামে পড়ছে। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ইতিমধ্যে টিকিট-মূল্য স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে।

