পূর্বাচলে ১০ কোটি টাকায় বায়োমেকানিকস ল্যাব গড়ছে বিসিবি, চোট কমাতে মিলবে আধুনিক সহায়তা

পূর্বাচলে ১০ কোটি টাকায় বায়োমেকানিকস ল্যাব গড়ছে বিসিবি, চোট কমাতে মিলবে আধুনিক সহায়তা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পূর্বাচলের প্রস্তাবিত জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ কোটি টাকায় একটি বায়োমেকানিকস ল্যাব স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশি পরামর্শক ও প্রযুক্তিশক্তির সহায়তায় ল্যাবটি ক্রিকেটারদের ব্যাট-সুইং, বোলিং অ্যাকশন, পেশী ও জয়েন্টের চাপ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করবে, যাতে চোট কমে এবং দক্ষতা বাড়ে। প্রাথমিকভাবে স্বল্প পরিসরে চালু হলেও পর্যায়ক্রমে সেটিকে ১৫–২০ কোটি টাকার পরিসরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বোর্ড নির্বাচন (অক্টোবর) শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে বিসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মূল তথ্য

• খরচ: প্রথম ধাপে ১০+ কোটি টাকা; ভবিষ্যতে ১৫–২০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

• অবস্থান: পূর্বাচল জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স।

• উদ্দেশ্য: ক্রিকেটারদের চোট-ঝুঁকি হ্রাস, কর্মদক্ষতা ও টেকনিক্যাল উন্নয়ন।

• পরিচালনা: শুরুতে ভারত বা পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ, পরে দেশীয় টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ।

• সুবিধা: বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা, ব্যাট-বল-গ্লাভসের উপযোগিতা যাচাই, পেশির শক্তি-ভারসাম্য মাপা ইত্যাদি।

• সময়সূচি: বিসিবি নির্বাচন (অক্টোবর) শেষে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা; নতুন পরিচালনা পর্ষদের হাতে কর্মপরিকল্পনা তুলে দেওয়া হবে।

প্রেক্ষাপট

দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো ক্রিকেট-শক্তিধর দেশগুলো গত এক দশকে বায়োমেকানিকস গবেষণাকে মাঠে নামিয়ে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার দীর্ঘ করেছে। ভারতে এখন ১১টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ল্যাব রয়েছে। বাংলাদেশে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতেও একটি ল্যাব ছিল, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার আপডেটের অভাবে সেটি কার্যকর নেই। ফলে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিদেশে যেতে হতো। বিসিবি মনে করছে, নিজস্ব ল্যাব থাকলে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে, পাশাপাশি দলীয় পারফরম্যান্স উন্নত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরীর ভাষায়, "খেলাধুলায় সফল সব দেশেই ক্রীড়াবিজ্ঞান ব্যবহৃত হয়। উপযুক্ত টেকনিশিয়ান ও সঠিক বিশ্লেষণ নিশ্চিত করতে পারলেই এর সুফল পাবো।" গেম ডেভেলপমেন্ট প্রধান ফাহিম সিনহা জানান, বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলামের আগ্রহে প্রকল্পটি গতি পেয়েছে। ক্রীড়া-বিজ্ঞানী ও সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, চোটের কারণে বারবার শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দল দুর্বল একাদশ নামাতে বাধ্য হয়েছে; নতুন ল্যাব সেই প্রবণতা বদলাতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন—যদি পর্যাপ্ত জনবল ও আর্থিক বরাদ্দ ধারাবাহিক না থাকে, প্রকল্পটি অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।

এরপর কী

১. পরামর্শক নির্বাচন: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত/পাকিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার টার্গেট।

2. অবকাঠামো নির্মাণ: স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ৪–৬ মাসের মধ্যে ল্যাব শেল তৈরি; একই সঙ্গে মোশন-ক্যাপচার ক্যামেরা, ফোর্স-প্লেট ও সফটওয়্যার বসানো।

3. প্রশিক্ষণ: প্রথম বছর বিদেশি টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে ১৫–২০ জন বাংলাদেশি ফিজিও, ট্রেনার ও কোচকে হাতে-কলমে শেখানো হবে।

4. সেবা সম্প্রসারণ: জাতীয় দলের পাশাপাশি বিপিএল, অনূর্ধ্ব-১৯ ও বিকেএসপির খেলোয়াড়দের অ্যাকশন টেস্ট এবং চোট-পুনর্বাসনে সহায়তা।

5. দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অর্জন।

More From Author

কলকাতায় গোপন কার্যালয় খুলে বিদেশ থেকেই দল চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন: ১৯ বছরে তৃষ্ণা–কৃষ্ণার পথচলার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *