পাকস্থলীর জন্য সকালের দুধ-চা না লাল চা? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

পাকস্থলীর জন্য সকালের দুধ-চা না লাল চা? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ঢাকার পুষ্টিবিদ ও গ্যাস্ট্রোএনট্রোলজিস্টরা জানাচ্ছেন, সকালের নাস্তায় কোন ধরনের চা পাকস্থলীর জন্য বেশি উপকারী—দুধ-চা না লাল চা—সে সিদ্ধান্ত ব্যক্তিভেদে বদলায়। নতুন গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, উচ্চ ক্যাফেইন ও দুধের ল্যাকটোজ মিলে দুধ-চা কারও কারও অম্লতা বাড়াতে পারে, আবার দুধের প্রোটিন অনেকের জন্য আরামদায়কও হয়। অন্যদিকে লাল চায়ে ক্যাফেইন তুলনামূলক কম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকায় এটিকে হালকা ও সহজপাচ্য বলে ধরা হচ্ছে। ১১ আগস্ট প্রকাশিত ‘ঢাকাটাইমস’-এর প্রতিবেদনে এই বিতর্ক সামনে আসে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা হালকা, সামান্য ঠান্ডা লাল চা পাকস্থলীতে ঝুঁকিহীন বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনে প্রায় চারজন মানুষ নিয়মিত অম্লতা, গ্যাস্ট্রিক বা হজমে গণ্ডগোলে ভোগেন—দেশীয় স্বাস্থ্য জরিপের এটা সাম্প্রতিক তথ্য। লাগামছাড়া ক্যাফেইন, তেল-মসলায় ভরপুর নাশতা আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসকে গবেষকেরা প্রধান কারণ বলছেন। ফলে সকালের প্রিয় পানীয় চা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

গ্যাস্ট্রোএনট্রোলজিস্ট ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, "দুধ-চা তৈরি হয় কালো চায়ে দুধ মিশিয়ে, ফলে ক্যাফেইনের পাশাপাশি ল্যাকটোজ যোগ হয়। উভয় উপাদানই হজমে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষত যাঁরা ল্যাকটোজ-সংবেদনশীল।" পুষ্টিবিদ ফারজানা আমিনের মতে, "লাল চায়ের পলিফেনল পাকস্থলীর পর্দা সুরক্ষায় সহায়তা করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, তাই অম্লতা কমাতে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত গরম বা খুব ঘন লাল চা পাল্টা ক্ষতি করতে পারে।"

কিভাবে এই পর্যন্ত এলাম

বাংলাদেশে চা–সংস্কৃতি মূলত দুধ-চা নির্ভর। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্য-সচেতন নগরবাসীর মধ্যে লাল চা বা গ্রিন টি জনপ্রিয় হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্বাস্থ্য পোর্টালগুলোর প্রচারণা এই প্রবণতা বাড়িয়েছে। ঢাকাটাইমসের প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেক পাঠক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে বিষয়টি আলোচনায় তোলেন।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• দুধ-চা এক কাপ (১৫০ মি.লি.)-এ ক্যাফেইন থাকে গড়ে ৪০–৫০ মি.গ্রা।

• একই পরিমাণ লাল চায়ে ক্যাফেইন নামে ২০–৩০ মি.গ্রা।

• ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতির হার বাংলাদেশে প্রায় ৩০%।

• অপরিকল্পিত গ্যাস্ট্রিক ও অম্লতা রোগীর বার্ষিক বৃদ্ধি ৭–৮% (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ২০২4)।

পরবর্তী পদক্ষেপ

১. যাঁরা নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান বা অম্লতায় ভোগেন, তাঁদের প্রথমে এক মাস দুধ বাদ দিয়ে লাল চা ট্রাই করতে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

২. চা হঠাৎ খুব গরম পান না করে ২–৩ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো; এতে পাকস্থলীর শ্লেষ্মা–ঝিল্লি ক্ষতির ঝুঁকি কমে।

৩. নাশতায় চা-রুটির সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য ফল বা সেদ্ধ ডিম যোগ করলে হজমস্বাস্থ্য ভালো থাকে।

৪. যারা দুধ-চা ছাড়তে পারছেন না, তারা পাতলা দুধ কম চিনি দিয়ে বানিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ২–৩ কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

শেষ কথা

লাল চা সাধারণত হজমে সাহায্য করে এবং দুধ-চায়ের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ—এটিই এখন চিকিৎসকদের সার্বিক মূল্যায়ন। তবে পানি, দুধ, চিনি ও চায়ের পাতা—সব কিছুর মাত্রা এবং ব্যক্তির সহনশীলতা বিবেচনা না করলে কোনও বিকল্পই শতভাগ নিরাপদ নয়। তাই পাকস্থলী নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে নিজের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলুন।

More From Author

চট্টগ্রাম বন্দরে রবি-এক্সেনটেকের ৫-জি ‘স্মার্ট পোর্ট’ চুক্তি, দক্ষতা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা

গাজা সিটি দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলে গণবিক্ষোভ, জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *