নির্বাচন সামনে, ৭০০ অস্ত্র খুঁজে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
রবিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ-র্যাব-সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের লুট হয়ে যাওয়া ৭০০-এর বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে কয়েক দিনের মধ্যেই নগদ পুরস্কার ঘোষণা করবে সরকার। এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র আনসার, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার জন্য আরও একজন সশস্ত্র আনসার ও বডি-ক্যামেরা সুবিধা থাকছে। রাজধানী থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রের ঘটনাপ্রবাহ রিয়েল-টাইমে দেখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছরে পুলিশ লকার, আদালত ভবন ও বিভিন্ন থানা থেকে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের অন্তত ১২টি ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৭০০-এর বেশি পিস্তল, রাইফেল ও শটগান হারিয়ে যায়। নতুন সরকার গঠনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রোববার এক বিবৃতিতে সন্ত্রাস দমনে ‘সরকার নরম হলে নির্বাচন অনিশ্চিত’ বলেও সতর্ক করেছে। অবস্থার সুযোগে অবৈধ অস্ত্র বাজার চাঙ্গা হওয়া এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতার ঝুঁকি মাথায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• হারানো আগ্নেয়াস্ত্র: ৭২৪টি (পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব, জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত)
• পুরস্কারের প্রস্তাবিত বাজেট: ২–৩ কোটি টাকা (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মুখে ইঙ্গিত)
• নির্বাচনী মাঠে নিরাপত্তা বাহিনী: আনুমানিক ৭ লাখ সদস্য, এর মধ্যে আনসার ৪ লাখের বেশি
• ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আনসার: প্রতি কেন্দ্রে ৩ জন (পূর্বে ছিল ২ জন)
• বডি-ক্যামেরা কেনা হচ্ছে: ১০ হাজার ইউনিট, যার মাধ্যমে জেলা কন্ট্রোল রুম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে
প্রতিক্রিয়া
মধ্যরাতেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শাসকদল আওয়ামী লীগের নেতারা পদক্ষেপকে ‘ট্রান্সপারেন্সি বাড়াতে সাহসী উদ্যোগ’ বললেও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আমিরুল ইসলাম আলীম (রাজশাহী) প্রথম আলোকে বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ে আতঙ্ক তৈরি না করে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’ নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাকিবুল হাসান রিয়াদ মনে করেন, পুরস্কারের ফলে টিপ-অফ বাড়লেও গোপনীয় সূত্রের নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, পুলিশ ভয়ে নয়, জনগণের আস্থা হারানোর কারণেই তথ্য পাচ্ছে না—এ বিষয়টি সমাধান জরুরি।
এরপর কী
দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গেজেট জারি করে পুরস্কারের অঙ্ক ও ধরন জানাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। থানাভিত্তিক হটলাইন নম্বর, বিশেষ কোড ও পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করবে, যাতে ডিবি, সিআইডি ও র্যাব সদস্যরা থাকবেন। অস্ত্র উদ্ধারে সহযোগিতা করা ব্যক্তির তথ্য যাচাই করে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও আগামী সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা বসাবে, যেখানে বডি-ক্যামেরা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ম্যাপিং ও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশপথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে।

