নতুন খসড়া তালিকায় ভোটার ১২.৬১ কোটি, নারী বাড়ল পুরুষের চেয়ে বেশি
ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রবিবার (৩০ জুন) ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। চলতি হালনাগাদে নতুন যুক্ত হয়েছে ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন ভোটার, আর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ মৃত ভোটারের নাম। এর ফলে দেশজুড়ে মোট নিবন্ধিত ভোটার এখন ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জন। আগামী ১২ দিনের মধ্যে তালিকা নিয়ে দাবি-আপত্তি জানানো যাবে; অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কমিশনের। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যে তরুণেরা ১৮ বছরে পা দেবেন, তাঁদেরও একটি সম্পূরক তালিকা করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই যুক্ত করা হবে। commission ঘোষণা দিয়েছে, হালনাগাদে নারী ভোটারের সংখ্যাই এবার বেশি যুক্ত হয়েছে।
মূল তথ্য
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ভোটারদের মধ্যে ২৭ লাখ ৭৬২ জন নারী, ১৮ লাখ ৭০ হাজার ২০৩ জন পুরুষ এবং ২৫১ জন হিজড়া পরিচয়ে নিবন্ধিত হয়েছেন। ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি কিংবা তার আগে জন্ম নেওয়া সব নাগরিক এই পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে ৭০ হাজারের বেশি তথ্যসঙ্কলক তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর পাশাপাশি ন্যাশনাল ডেটাবেসে থাকা মৃত্যুসনদের সঙ্গে মিলিয়ে মৃত ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। ফলে মৃত জনসংখ্যা হিসাব করা ছাড়াই ভোটার তালিকার বাস্তবতা বাড়ল বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নির্বাচন-ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। বিরোধী দলগুলো ভোটের টার্নআউট ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরই মধ্যে অক্টোবরের মধ্যে সব দলকে নিয়ে সংলাপের ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। নতুন তালিকা সেই আলোচনায় ‘বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠি’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• মোট ভোটার: ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০
• নতুন ভোটার: ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬
• মৃত ভোটার বাদ: ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০
• নারী-পুরুষ অনুপাত (নতুন): নারী ২৭ লাখ, পুরুষ ১৮.৭ লাখ
• হিজড়া ভোটার: ২৫১
• আপত্তির সময়সীমা: প্রকাশের ১২ দিনের মধ্যে
• চূড়ান্ত তালিকা: ৩১ আগস্ট ২০২৪
এর গুরুত্ব কী
নির্ভুল ভোটার তালিকা নির্বাচনের ভিত্তি। ২০১৮ সালে বিতর্কিত লেভেল-প্লেয়িং-ফিল্ড প্রশ্নে যে সমালোচনা উঠেছিল, তার একটি বড় অংশ ঘুরপাক খায় ‘ভুয়া ভোটার’ ইস্যুকে ঘিরে। এবার মৃত নাগরিকদের নাম ছাঁটাই ও তরুণ ভোটার অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত সঠিক জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারের সিংহভাগ বৃদ্ধি রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচারে নতুন কৌশল ভাবতে বাধ্য করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
১) ১২ দিনের মধ্যে যে কেউ স্থানীয় উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে অনলাইন বা লিখিতভাবে আপত্তি দিতে পারবেন। ২) অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপ-পর্যায়ে শুনানি হবে; মিথ্যা তথ্য দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসি। ৩) ৩১ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে। ৪) ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ করা নতুন তরুণদের জন্য সম্পূরক তালিকা ছাপা হবে, যাতে তাঁরা পরের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।

