তুরস্কের বালিকেসিরে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত্যু ১, আহত অন্তত ২৯
রবিবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩-এ তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকেসির প্রদেশে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। সরকারি দুর্যোগ সংস্থা এএফএডি ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন কেন্দ্রীয়গুলো জানায়, কেন্দ্রস্থল ছিল সিন্দিরগি শহর, ভূগর্ভের গভীরতা প্রায় ১০–১১ কিলোমিটার। অন্তত ১৬টি ভবন ধসে পড়ে; ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮১ বছর বয়সী এক নারীকে উদ্ধার করার পর তাঁর মৃত্যু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন এবং উদ্ধারকারী দল কমপক্ষে তিনটি আফটারশক নথিবদ্ধ করেছে। কম্পন দূরের ইস্তাম্বুল ও ইজমির পর্যন্ত অনুভূত হয়। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাপ্রবাহ
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৫৩-তে ভূমিকম্প শুরু হয় এবং প্রায় 15 সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানান। এরপর ৪.৬ মাত্রার অন্তত দুটি আফটারশক হয়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ লাইনে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও রাতের মধ্যেই বেশির ভাগ এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। ধাক্কা এতটাই জোরালো ছিল যে ২০০ কিলোমিটার দূরের ইস্তাম্বুলের উঁচু ভবনগুলোও দুলে ওঠে, মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
মৃতঃ ১
আহতঃ ২৯
ধসে পড়া ভবনঃ ১৬+
মৃত নারীর বয়সঃ ৮১ বছর
গভীরতা (কিমি)ঃ ১০–১১
আফটারশকঃ ৩ (সর্বোচ্চ ৪.৬ মাত্রা)
প্রতিক্রিয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া ‘এক্স’-এ জানান, এএফএডি, দমকল ও জেন্ডারমেরি দল সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে “ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত আরোগ্য” কামনা করেন এবং উদ্ধার তদারকিতে নিজ দফতর থেকে সরাসরি নজর রাখার কথা বলেন। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশ না করতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে। তাবু, কম্বল ও মোবাইল চিকিৎসাকেন্দ্র পাঠানো হয়েছে।
বৃহত্তর চিত্র
তুরস্ক তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় দেশটি ভূকম্প প্রবণ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ৭.৮ মাত্রার বিপর্যয়ে দেশ ও প্রতিবেশী সিরিয়ায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরপর থেকে অবকাঠামো মজবুত করতে সরকার নতুন নির্মাণবিধি চালু করলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন যে পুরোনো ভবনগুলোর ঝুঁকি রয়ে গেছে। বর্তমান দুর্ঘটনা সেই আশঙ্কাই আবার সামনে আনল।
এরপর কী
এএফএডি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে তাপ ক্যামেরা ও স্নিফার কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবারের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের কথা। ভূমিকম্প পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিন্দিরগি ও আশপাশের স্কুল বন্ধ থাকবে। সরকারের দুর্যোগ তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পৌঁছালেও পুনর্গঠন ও পুরোনো ভবন পরীক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

