ঢাবি হলে ছাত্ররাজনীতি স্থগিত: সমঝোতার আহ্বান জানালেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের হলভিত্তিক কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে উত্তেজনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি হল এলাকায় নিষিদ্ধ করেছে। পরদিন শনিবার (৯ আগস্ট) রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘ছাত্রসংগঠনগুলো আগে থেকেই একটি যৌথ রূপরেখা ও সোশ্যাল কনট্র্যাক্টে পৌঁছালে এই অবস্থা হতো না।’ তাঁর মতে, ৫ আগস্টের সংস্কার উদ্যোগের পর সংগঠনগুলোর উচিত ছিল নতুন কাঠামোতে একমত হওয়া।
পটভূমি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে দলীয় কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নতুন করে ঘনীভূত হয় ছাত্রদলের ৮ আগস্টের কমিটি ঘোষণার পর। দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামে এবং রাতেই একাধিক হলে ভাঙচুর-হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো হল এলাকায় দলীয় রাজনীতি চলবে না। শিবির থেকে বাম সংগঠন—কারা হলে কমিটি রাখবে, কারা রাখবে না—এ নিয়ে বিতর্কও মাথাচাড়া দেয়।
প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া আসে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, "ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের, কিন্তু সংগঠনগুলো আরও পরিপক্বতা দেখাতে পারত।" ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ প্রশ্ন তুলেছেন, "বাম সংগঠন হলে কমিটি রাখলেও আপত্তি নেই, আমাদের বেলায় কেন?" সামাজিক মাধ্যমে সাবেক শিক্ষার্থীরা মিলিত শিক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব গঠনের ঐতিহ্য স্মরণ করে হলভিত্তিক রাজনীতি বন্ধকে ‘তাৎক্ষণিক কিন্তু অস্থায়ী সমাধান’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
বিশ্লেষণ
বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৯৭৩ সালের অটোনমি আইন অনুযায়ী হল পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের চূড়ান্ত দায় সিন্ডিকেটের। তবে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি সুপ্রীম কোর্টের একাধিক রায়ে ‘শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার প্রশাসনিক ক্ষমতা’ হিসেবে বৈধতা পেয়েছে। শিক্ষাবিদ ড. আযহারুল ইসলাম রויטার্সকে বলেন, “সমস্যা রাজনীতিতে নয়, সশস্ত্র আধিপত্যে। সমঝোতা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী হবে না।” দীর্ঘমেয়াদে ছাত্রসংগঠনের ‘সোশ্যাল কনট্র্যাক্ট’ আদৌ সম্ভব কিনা—তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর, কারণ তহবিল ও মনোনয়ন নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।
এরপর কী
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে; তারা এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। আপাতত হলের ভেতরে সভা-সমাবেশ, পোস্টারিং ও দখলদারি কর্মকাণ্ডে শূন্য সহনশীলতা থাকবে বলে প্রক্টরিয়াল দপ্তর জানিয়েছে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রস্তাবের পর বাম, ডান ও মধ্যমপন্থী ১১টি ছাত্রসংগঠন চলতি সপ্তাহেই একটি ‘সমঝোতা প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে অস্ত্র, দখল ও নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং বন্ধে যৌথ নীতিমালা প্রণয়ন করা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুতই এসব সংগঠন হল পর্যায়ে কমিটি স্থগিত রেখে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত স্থানে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর বিকল্প চিত্রে অগ্রসর হতে পারে।

