ঢাকার ফ্লাইওভারে আগুন ধরা জিপে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে সড়কদুর্ঘটনা

ঢাকার ফ্লাইওভারে আগুন ধরা জিপে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে সড়কদুর্ঘটনা

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বনানীর আমতলী মোড়ে সেতু ভবনের সামনে উড়ালসড়কের বিভাজকে ধাক্কা লেগে জিপে আগুন ধরে যায়। হাজারীবাগের তিন চাচাতো ভাই ঢাকামুখী ওই গাড়িতে ছিলেন; ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা শওকত হোসেন কানন (৪৫) ও ট্যানারি ব্যবসায়ী মো. রিন্টু (৪৬) মারা যান, হাসনাত (৩২) নামের অপর ভাই আহত হন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ইঞ্জিনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, পরে দমকল কর্মীরা গাড়ি ছাইভস্ম অবস্থায় উদ্ধার করেন।
একই সময়ে বগুড়ার শাজাহানপুর, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং দেশের অন্য স্থানে আরেকটি সিএনজি, মাইক্রোবাস ও পিকআপ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন মারা গেছেন বলে ‘রাইজিংবিডি’ ও ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে। টানা বৃষ্টি, খারাপ রাস্তা ও চালকদের ক্লান্তি—তিনের যুগলবন্দীতে বর্ষায় সড়ক নিরাপত্তা আবার শিরোনামে।

মূল তথ্য

বনানী থানার উপপরিদর্শক সিদ্দিক হোসেন জানান, রাত আড়া্টায় সেতু ভবনের ঢালে সাদা জিপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কংক্রিট ডিভাইডারে উঠে যায়। সংঘর্ষের ধাক্কায় ফুয়েল লাইন ছিঁড়ে আগুন লেগে যায়। পথচারী বিল্লাল হোসেন ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভালেও তখনই রিন্টু ঘটনাস্থলে এবং শওকত হোসেন ভোর পাঁচটার আগেই ঢামেকে মারা যান। আহত হাসনাত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনই শুক্রবার রাতে ব্যবসায়িক কাজ সেরে হাজারীবাগ ফিরছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ

• একই রাতে বগুড়ার শাজাহানপুরে বাস ও ট্রাকের ধাক্কায় উল্টে যাওয়া সিএনজিতে আরিফ (২১) নিহত, চারজন গুরুতর আহত (সূত্র: Risingbd)।

• এর দুই দিন আগে ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়া মাইক্রোবাসে লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের সাতজন মারা যান; পালাতক চালকের বিরুদ্ধে এখন মামলা (সূত্র: Risingbd)।

• খাগড়াছড়ি–রাঙামাটিতে বন্যা ও সড়কডুবির কারণে ছয় হাজার পরিবার অবরুদ্ধ; চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ (সূত্র: দৈনিক আজাদী)।

• চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়ক ও শীতলঝর্ণা খালের দুটি পুরোনো ব্রিজ ভেঙে বা দেবে গিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ, কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতে সংস্কার পিছিয়ে আছে (সূত্র: দৈনিক আজাদী)।

প্রেক্ষাপট

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৩ মি.মি. বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে; ঢাকা, রংপুর ও সিলেটেও প্রবল বর্ষণে রাস্তায় গর্ত ও অ্যাকোয়াপ্ল্যানিং বেড়েছে (সূত্র: প্রথম আলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর)। বৃষ্টির সঙ্গে পুরোনো ডিভাইডার, অসংরক্ষিত ফ্লাইওভার র‌্যাম্প ও ফাটল ধরা সড়কের সমন্বয় অনেক চালককে শেষ মুহূর্তে ব্রেক করতে বাধ্য করছে, যা আগুন লাগা কিংবা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। হাইওয়ে পুলিশ বলছে, রাত ১২টার পর ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত মোবাইল টহল নেই, ফলে ঘুমঘোরে চালকদের ওপরই নির্ভর করে নিরাপত্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) এর সাবেক প্রধান অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলছেন, "বর্ষাকালে প্রতি চারটি দুর্ঘটনার একটির কারণ সড়ক পৃষ্ঠে পানি দাঁড়ানো, যেটি সহজেই স্কিডিং ঘটায়। ঢাকার ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও ড্রেনেজ ঠিক রাখতে না পারলে আরও দুর্ঘটনা ঘটবে।" তিনি চালকদের প্রশিক্ষণ, রাত ১২টার পর ২ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক বিশ্রাম ও ইলেকট্রনিক গতি নিয়ন্ত্রণক সিস্টেম চালুর পরামর্শ দেন।

এর গুরুত্ব কী

সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা বিআরটিএর হিসাব বলছে, ২০২৩ সালে দেশে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন; বর্ষাকালেই মারা গেছেন প্রায় ৩৫%। এবার মৌসুমের প্রথম দিকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বড় ঘটনার হুমকি দেখা যাচ্ছে। একদিকে বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, অন্যদিকে রাতের বাণিজ্যিক যাত্রার চাপ—দুটি চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে না আনলে সরকার ঘোষিত ‘সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেক কমানো’ টার্গেট ঝুঁকিতে পড়বে।

এরপর কী

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ফ্লাইওভার র‌্যাম্পে গতি সীমা ঘন ঘন লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ফায়ার সার্ভিস পৃথক তদন্তে গাড়িতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বৃষ্টি মৌসুমে জরুরি পিচ补修 ও ডিভাইডার সংস্কারে জেলা প্রকৌশল দপ্তরকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছে। meanwhile, নোয়াখালীর মামলায় পলাতক মাইক্রোবাস চালক আকবর হোসেনকে ধরতে হাইওয়ে পুলিশ ঢাকাসহ কয়েক জেলায় চেকপোস্ট জোরদার করেছে।

More From Author

যুক্তরাজ্যে প্রাক্তন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের তিন হাউজিং কোম্পানি প্রশাসনের হাতে

ভাইকে এক বছর ঘরবন্দী রাখার অভিযোগ আমির খানের বিরুদ্ধে, ফয়সালের বিস্ফোরক দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *