চট্টগ্রামে এনসিপির ৩২ সদস্যের নগর কমিটি, দলে ভেতরেই ভেসে উঠেছে অসন্তোষ

চট্টগ্রামে এনসিপির ৩২ সদস্যের নগর কমিটি, দলে ভেতরেই ভেসে উঠেছে অসন্তোষ

শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩২ সদস্যের সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা মীর আরশাদুল হককে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছে; আটজন যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ২৩ জন সাধারণ সদস্য রাখায় তিন মাসের জন্য কমিটি আপাত অনুমোদন পেয়েছে। ঘোষণাটি স্বাক্ষর করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
একই দিনে বাংলাট্রিবিউনকে দেওয়া এক বক্তব্যে সাতকানিয়ার যুগ্ম সমন্বয়কারী আরফান উদ্দিন মাসুদ ‘আলোচনা ছাড়া কমিটি গঠন’ অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে পদত্যাগের কথা জানান। ফলে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

মূল তথ্য

সামকাল, ঢাকা টাইমস ও বাংলা ট্রিবিউনের বরাতে জানা যায়, নবগঠিত কমিটির মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন মাস অথবা পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি বসানো পর্যন্ত। মীর আরশাদুল হক ছাড়াও যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রাখা হয়েছে মোহাম্মদ এরফানুল হক, আরিফ মঈনুদ্দিন, রাফসান জানি রিয়াজ, মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, জসিম উদ্দিন ওপেল, জোবাইর হোসেন, মুহাম্মদ সাঈদুর রহমান ও নিজাম উদ্দিনকে। ২৩ জন সদস্যের তালিকায় রয়েছে সাদিয়া আফরিন থেকে শুরু করে চিকিৎসক মাহতাব উদ্দিন আহমদ পর্যন্ত বিভিন্ন পেশার তরুণ–তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া দলটির একটি ‘নিউ নর্মাল’ প্রবণতা বলে নেতারা উল্লেখ করেন।

প্রেক্ষাপট

গত বছরের জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এনসিপি নিজেদের ‘বিকল্প নাগরিক শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠন মজবুত করতে মরিয়া। চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে এনসিপির জন্য অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেই লক্ষ্য করে দ্রুত জেলা-মহানগর কমিটি সাজাচ্ছে দলটি।

প্রতিক্রিয়া

কমিটির খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি সমালোচনাও দেখা যায়। সাতকানিয়ার নেত্রী আরফান উদ্দিন মাসুদ ফেসবুকে অভিযোগ করেন, ‘এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে আলোচনা ছাড়া কমিটি গঠন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।’ তিনি দল ছাড়ার ঘোষণাও দেন। দলের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক সমকালকে বলেন, ‘সবাইকে নিয়েই সামনে এগোতে চাই, যে কোনও গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নেব।’ তবে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নবীন দলের সংগঠন বিস্তারে দ্রুতগতির কমিটি গঠন স্বাভাবিক; তবে ‘বোথম’-আপ প্রক্রিয়া না থাকলে আস্থা সঙ্কট তৈরি হয়। চট্টগ্রামে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটির মাঝখানে তৃতীয় শক্তি দাঁড় করাতে হলে স্থানীয় নেতাদের সম্মিলিত সম্মতি অত্যন্ত জরুরি। গণমাধ্যম বিশ্লেষক আনিসুল হক বলেন, ‘একদিকে এনসিপি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দিচ্ছে, অন্যদিকে মাঠের কর্মীদের অভিযোগ অগ্রাহ্য করছে—এ দ্বৈততা টেকসই সংগঠনে বাধা হতে পারে।’

পরবর্তী পদক্ষেপ

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। নতুন কমিটি এখন ওয়ার্ড ও থানাভিত্তিক উপকমিটি, সদস্য সংগ্রহ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির খসড়া তৈরি করবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের শেষ সপ্তাহেই নগর জুড়ে ‘নাগরিক সংলাপ’ শীর্ষক ধারাবাহিক সভা করার পরিকল্পনা আছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় দপ্তর সেই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে; সফলতা নির্ভর করবে মাঠ পর্যায়ের ঐক্য বজায় রাখা এবং সমালোচনাকারী নেতাদের ফেরাতে পারার ওপর।

More From Author

বুলাওয়েতে রেকর্ড জয়ে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড

উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ, প্রমাণ চাইল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *