চট্টগ্রাম লায়ন্স ক্লাব ক্লাসিকে নেতৃত্ব বদল ও জেলা গভর্নর টিমকে সংবর্ধনা
চট্টগ্রাম নগরীর হালিমা রোকেয়া হলে বুধবার, ৭ আগস্ট রাতে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ক্লাসিকের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও লায়ন্স জেলা ৩১৫-বি৪ এর নতুন গভর্নর টিমকে বরণ করতে রঙিন এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। লায়ন সুযিত কুমার নাথ (অর্ক) বিদায়ী সভাপতি লায়ন লোকমান হোসেন মজুমদারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি পদ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নতুন জেলা গভর্নর লায়ন মসলেহ উদ্দিন আহমেদ (আপু), যিনি ‘Unity Makes Prosperity—একতাতে সমৃদ্ধি’ স্লোগান সামনে রেখে আসন্ন সেবাবর্ষে জোরালো মানবিক কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান জানান। দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়াও ক্লাবের ২০২৪-২৫ সেবাবর্ষের উল্লেখযোগ্য অবদান রাখাদের ক্রেস্ট, এবং জেলা গভর্নর ফান্ডে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, লায়ন্স ক্যাবিনেট এবং লিও সদস্যসহ বিভিন্ন সেবামুখী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রেক্ষাপট
১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করা লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল বর্তমানে ২০০-এর বেশি দেশে ১৪ লাখেরও বেশি সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশে সংগঠনটির ৩০টির বেশি জেলা, আর চট্টগ্রামে রয়েছে কয়েক ডজন সক্রিয় ক্লাব। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ক্লাসিক ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষুশিবির, বৃক্ষরোপণ ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে। প্রতি সেবাবর্ষে (জুলাই–জুন) নতুন নেতৃত্ব গঠনের রীতি অনুযায়ী এবারও হালকা আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ক্লাবের শপথ, পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘চার্টার নাইট’ আয়োজন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• ১টি সভাপতি পদ ও ২০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে শপথ নিল
• ৪ জন লায়ন ও ১টি লিও টিমকে ‘এক্সেলেন্স’ ক্রেস্ট প্রদান
• ১ লাখ টাকা অনুদান জেলা গভর্নর ফান্ডে হস্তান্তর
• ৩০০-এর বেশি ক্লাব ও অতিথি সদস্য অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত, যার মধ্যে ৪০% নারী
• ২০২৪-২৫ সেবাবর্ষে অন্তত ১৫টি চক্ষুশিবির ও ১০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঘোষণা
প্রতিক্রিয়া
দায়িত্ব নেওয়ার পর নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন সুযিত কুমার নাথ বলেন, “চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাতে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করছি।” বিদায়ী সভাপতি লায়ন লোকমান হোসেন মজুমদার তাঁর এক বছরের সাফল্যের মধ্যে ৫টি রক্তদান ক্যাম্প ও ২০টি ছাত্রবৃত্তি কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি জেলা গভর্নর লায়ন মসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু অনুদান বাড়ানো নয়, সেবার সামর্থ্যকে বহুগুণ বাড়ানো—এটাই একতায় সমৃদ্ধির অর্থ।” অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “কমিউনিটির সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তোলায় পুলিশ-লায়ন্স পার্টনারশিপ নগর নিরাপত্তা উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
এরপর কী
নতুন কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি ওয়েটিং-লিস্ট সরকারি স্কুলে ‘দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা সপ্তাহ’ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে প্রাথমিক শ্রেণির ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিনা খরচে চোখ পরীক্ষা ও চশমা পাবে। পাশাপাশি হাটহাজারী ও বাঁশখালীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং কর্ণফুলী নদী পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণের প্রস্তুতি চলছে। ডিসেম্বর নাগাদ ক্লাবটি একটি আধুনিক ব্লাড ডোনার ডাটাবেস খুলবে, যাতে দুর্যোগকালেও মুহূর্তের মধ্যে রক্ত সংগ্রহ সম্ভব হয়। ক্লাব নেতারা আশা করছেন, স্থানীয় শিল্পপতি ও করপোরেটদের সহায়তায় বাজেট দ্বিগুণ করে নতুন এক সেবামুখী বছর শুরু করতে পারবেন।

