কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুটবল ফাইলে মালয়েশিয়ার বিডিএফসি ৩–০ গোলে জয়ী
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিয়ে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব শনিবার ৯ আগস্ট রাতে কুয়ালালামপুরের একটি জাতীয় স্টেডিয়ামে হয়। ফাইনালে বিডিএফসি মালয়েশিয়া ৩–০ ব্যবধানে হারায় এসএসএফ সিঙ্গাপুরকে। ম্যাচ শুরুর আগে ও শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে মাঠভরা ছিলেন প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। উপস্থিত ছিলেন বিডিএফসি মালয়েশিয়ার সভাপতি আব্দুল মবিন ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ৯০ মিনিটের খেলায় প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মালয়েশিয়ার দলটি টানা তিনটি গোল করে ট্রফি তুলে নেয়। সংঘটিত এ আয়োজন প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মচাপ কমিয়ে মনোবল বাড়াতে নিয়মিত উদ্যোগের অংশ বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
ঘটনাপ্রবাহ
বাংলাদেশ সময় শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় (স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটা) কিক-অফ হয়। টেকটিক্যাল মধ্যমাঠের লড়াইয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ পেলেও জাল কাঁপাতে পারেনি। বিরতির পর ৫৩-তম মিনিটে ডান দিক থেকে ক্রসে হেডে স্কোরশিট খুলে বিডিএফসিকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড তুহিন। ৬৭-মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার আজিজুল, আর ৮৩-তে বদলি খেলোয়াড় রকি লোফটে শটে স্কোরলাইন ৩–০। নির্ধারিত সময়ের শেষ বাঁশি বাজতেই ড্রাম বাজিয়ে, বাঁশি ফুঁকে গ্যালারিতে নাচতে থাকেন সমর্থকেরা।
প্রেক্ষাপট
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে আনুমানিক ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। দৈনিক শ্রমের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো নিয়মিত ক্রিকেট-ফুটবলের মতো প্রতিযোগিতা করে। বিডিএফসি (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফুটবল ক্লাব) মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর সোশ্যাল ফোরাম (এসএসএফ) এই দুটি প্ল্যাটফর্মই মূলত নির্মাণ, রেস্তোরাঁ ও সার্ভিস সেক্টরের শ্রমিকদের দিয়ে গড়া। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো বড় আকারে জাতীয় স্টেডিয়াম ভাড়া করা হয়।
প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে বিডিএফসির সভাপতি আব্দুল মবিন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, "এই জয় শুধু ট্রফি জয় নয়, বরং আমাদের ছেলেগুলোর আত্মবিশ্বাসের জয়।" পরাজিত হয়েও এসএসএফ সিঙ্গাপুরের অধিনায়ক আমানউল্লাহ জানান, "প্রবাসে আমরা সবাই একই পতাকার মানুষ। ফল যা-ই হোক, বন্ধুত্বটাই বড়।" গ্যালারিতে থাকা গার্মেন্টস কর্মী রুবেল বলেন, "ছুটির দিনে এমন আনন্দ না পেলে সপ্তাহজুড়ে কাজের চাপ সামলানো কঠিন হতো।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীরা লাইভস্ট্রিমে ম্যাচ দেখেছেন, ফেসবুক গ্রুপে অভিনন্দনের পোস্ট ছড়িয়েছে দ্রুত।
বৃহত্তর চিত্র
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। সফরের মূল আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো দেশটির শ্রমবাজারে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাদের কল্যাণ। প্রেস সচিব শফিকুল আলম রবিবার ঢাকায় বলেছেন, "অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনযাত্রা উন্নত করতে বৈঠকে কনট্রাক্টের সুরক্ষাসহ নানা এমওইউ সই হবে।" বিশ্লেষকেরা মনে করেন, প্রবাসীদের মাঝের এমন ক্রীড়া আয়োজন কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংহতি বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় পরোক্ষভাবেও গুরুত্ব পায়।
এরপর কী
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আগামী বছর টুর্নামেন্টে মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুয়ালালামপুরে একটি স্থায়ী ‘বাংলাদেশি স্পোর্টস কার্নিভাল’ আয়োজনের আলোচনা চলছে, যাতে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট ও কাবাডি যোগ হবে। মালয়েশিয়া সফরে প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন; সেখানেই আয়োজনের রূপরেখা উপস্থাপন করতে চায় বিডিএফসি।

