BNP র ৩১ দফা নিয়েই চলমান সংস্কার আলোচনার ৯৯%—দাবি তারেক রহমান
ঢাকায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের সদ্য গঠিত ‘সংস্কার কমিটি’ যেসব পরামর্শ সংগ্রহ করছে, তার প্রায় সবই বিএনপি আড়াই বছর আগে ৩১ দফা আকারে জাতির সামনে দিয়েছিল। শনিবার, ৯ আগস্ট তিনি লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে জানান, জনগণের সমর্থন পেলে দলটি সকল অংশীজনকে নিয়ে ওই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। তারেক রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্ট দেশের মানুষ পরিবর্তনের হাওয়া টের পেয়েছে, এখন তারা স্বস্তির বাংলাদেশ দেখতে চায়। ভাষণে তিনি গণতন্ত্রোন্নয়ন, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
প্রেক্ষাপট
গত মাসে সরকার ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ শীর্ষক একটি কমিটি গঠন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ বলছে, লক্ষ্য হচ্ছে সংবিধান কাঠামোর ভেতরে থেকেই প্রশাসনিক, বিচারিক ও নির্বাচনব্যবস্থায় বদল আনা। বিএনপি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৩১ দফা সংস্কার রোডম্যাপ প্রকাশ করে, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকারসহ নানা প্রস্তাব ছিল। দুই পক্ষের আলোচ্য বিষয়ের উচ্চমাত্রার মিল এখন রাজনৈতিক ময়দানে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
৩১: বিএনপির ঘোষিত সংস্কার দফা
৯৯%: তারেক রহমানের ভাষ্যে বর্তমান আলোচনার সঙ্গে মিলের পরিমাণ
১৫: তারেকের মতে গত ১৫ বছরে ‘হাজার’ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ
৫ আগস্ট ২০২৪: বিএনপি নেতার ভাষায় ‘পরিবর্তনের শ্বাস’ নেওয়ার দিন
১: সংস্কার বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ সরকার
প্রতিক্রিয়া
আওয়ামী লীগের যৌথ সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দ্রুতই সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিজেদের দায়িত্বহীনতার ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি এখন ক্রেডিট নিতে চাইছে।’ তবে নাগরিক প্ল্যাটফরমগুলোর মতে, প্রস্তাব কার—সেটি বড় নয়, বাস্তবায়নই মুখ্য। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান bildirib, ‘রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে যৌথ সংস্কারপথে অগ্রসর হওয়া গেলে গণতন্ত্রই লাভবান হবে।’ সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি সমর্থকেরা এ মন্তব্যকে সমর্থন জানালেও সরকারপন্থীরা একে ‘সস্তা প্রচারণা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রিয়াজ মনে করেন, ৩১ দফার বড় দিক হচ্ছে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য আনা’। তবে তিনি সতর্ক করেন, ‘নির্বাচনের আগেই অন্তর্জাতিক নিরীক্ষণ ছাড়া এই প্রস্তাবগুলো কাগজেই থেকে যেতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হোসেনের মতে, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইস্যু কনটেন্ট নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা।’ তারেক রহমান ভার্চুয়াল, খালেদা জিয়া কারাবন্দী—এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির জন্য জনগণের আস্থার সেতু গড়া বড় চ্যালেঞ্জ।
এরপর কী
সংস্কার কমিটি চলতি মাসেই সব দলের লিখিত প্রস্তাব গ্রহণ শেষ করতে চায়। এরপর প্রাথমিক খসড়া যাবে মন্ত্রিসভায়। বিএনপি বলছে, তারা ক্ষমতায় গেলে অবাধ নির্বাচন দিয়ে নতুন সাংবিধানিক কমিশন গঠন করবে; অন্যদিকে সরকার চাইছে বিদ্যমান কাঠামোই শক্তিশালী করতে। অক্টোবরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বিদেশি কূটনীতিকেরা দুই পক্ষকে একই টেবিলে বসাতে উদ্যোগ নিতে পারে, এমন গুঞ্জন রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জানুয়ারি ২০২৫-এর পূর্বেই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলবে। ততদিন পর্যন্ত ‘কোন সংস্কার কার’ বিতর্কই মূল মঞ্চ জুড়ে থাকবে।

