পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়, সিরিজে ১–১ সমতা
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডাকওয়ার্থ–লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫ ওভারে পাকিস্তানের ১৭১ রানের জবাবে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮১; ১০ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় তারা। রোস্টন চেজ ৪৯* রান ও বল হাতে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, শারফেন রাদারফোর্ড করেন ৪৫। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতল ক্যারিবীয়রা, সব মিলিয়ে বিজয়–খরা ভাঙতে লেগেছে ছয় বছর। তিন ম্যাচ সিরিজ এখন ১–১; প্রথম ম্যাচে জিতেছিল পাকিস্তান। সিদ্ধান্তজনিত বৃষ্টি, টস জিতে ব্যাট নেওয়া পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলার জেইডেন সিলসের (৩/২৩) সামনে দৃষ্টিনন্দন কিছু করতে পারেনি। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ একই মাঠে হবে আগামী বুধবার।
প্রেক্ষাপট
সাতের দশকের পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ধীরে ধীরে ধার হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের লড়াই বরাবরই জমজমাট। শেষ ছয় বছরে ৪টি ওয়ানডে ও ৮টি টি–টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হলেও ক্যারিবীয়রা একটিও জিততে পারেনি—পরিসংখ্যানটি দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ছাপ ফেলেছিল। চলতি সফরে প্রথম টি–টোয়েন্টি সিরিজে ৮ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর পরও ৫০ ওভারের ফরম্যাটে একই ছবি দেখা যাচ্ছিল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান সহজেই পাঁচ উইকেটে জিতলে সমালোচনা শুরু হয় দলে বারবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে তাই ঘরের মাঠে ছন্দে ফেরা ছিল প্রয়োজন, যা শেষ পর্যন্ত হয়েছে কন্ডিশন পড়ে নেওয়া বোলিং ও মধ্য–অর্ডারের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• পাকিস্তান: ৩৫ ওভারে ১৭১/৭; সর্বোচ্চ হাসান নওয়াজ ৩৬*, তালাত ৩১
• ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য: বৃষ্টি–কাটা ১৮১ (৩৫ ওভার)
• ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৩.২ ওভারে ১৮৪/৫
• জয়: ৫ উইকেট, ১০ বল বাকি
• রোস্টন চেজ: ৪৯* (৪৭ বল) ও ১/৩৭
• শারফেন রাদারফোর্ড: ৪৫ (৩৩ বল)
• জেইডেন সিলস: ৩ উইকেট ২৩ রানে
• সিরিজ অবস্থা: ১–১
• শেষ বার পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওডিআই জয়: ৩১ মে ২০১৯, নটিংহাম
• পরের ম্যাচ: ২৩ আগস্ট, ব্রায়ান লারা স্টেডিয়াম, ত্রিনিদাদ
বিশ্লেষণ
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৫তম ওভারের পর। তখন ১০৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও ৭৪ রান করতে হতো, হাতে ছিল মাত্র ২০ ওভার। পাকিস্তানি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ টানা দুই ওভারে হোপ ও রাদারফোর্ডকে আউট করে চাপ বাড়ান, কিন্তু ছয়ে নামা রোস্টন চেজ বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে ডট বল কমিয়ে সিঙ্গেল তুলে নেন। গ্রিভসকে নিয়ে ৭২ বলের জুটিতে ৭৭ রান আসে, যার ৫৫ শতাংশই আসে দ্রুত রান ঘোরানোর মাধ্যমে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বোলিংয়ে বৈচিত্র্যের অভাব স্পষ্ট—দুই পেসার হাসান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদির ইনজুরিতে না থাকা দলটিতে ডেথ–ওভারে গতি ও ইয়র্কারের ঘাটতি দেখা যায়। দুর্বল মিডল–প্যানচার পাকিস্তান ব্যাটিংও বড় স্কোর করতে পারেনি; প্রথম ১০ ওভারে ৪.৩ রান রেট শুরু থেকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় সফরকারীদের।
প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ বলেন, "শেষ কয়েক বছর আমরা ব্যাট–বলে ধারাবাহিক হতে পারিনি। আজ ছেলেরা শান্ত ছিল, পরিকল্পনা মেনে খেলেছে। বিশেষ করে চেজ ও গ্রিভস যেভাবে শেষ করল, দারুণ আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।" পাকিস্তান অন্তর্বর্তী অধিনায়ক শাদাব খান (বাবর আজম বিশ্রামে) স্বীকার করেন, "মিডল ওভারে আমরা যথেষ্ট রোটেট করতে পারিনি, তাই ২০–২৫ রান কম করেছি। সিরিজ বাঁচাতে বোলারদের আরও সঠিক লাইন–লেংথ বজায় রাখতে হবে।" ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা টেলিভিশন বিশ্লেষণে বলেন, "চেজের ইনিংস দেখাল, অভিজ্ঞতা কীভাবে ঝুঁকি সামলায়; পাকিস্তান শৃঙ্খলা হারিয়েছিল।"
এরপর কী
তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে বুধবার একই ভেন্যুতে। সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে দুই দলই পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে দীর্ঘ দিন পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওডিআই সিরিজ জয় করতে; অন্যদিকে আইসিসি সুপার লিগের বাইরে থাকলেও পাকিস্তান র্যাঙ্কিং পয়েন্ট বাড়াতে মরিয়া। ম্যাচের পরপরই দুই দলই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে, তাই শেষ ম্যাচে পারফরম্যান্স ব্যক্তিগত পর্যায়েও দলে জায়গা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

