হারানো ৭০০ সার্ভিস অস্ত্র ফেরাতে পুরস্কার স্কিম আনছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

হারানো ৭০০ সার্ভিস অস্ত্র ফেরাতে পুরস্কার স্কিম আনছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রাজধানীর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক শেষে রোববার (৯ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশ-র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর ‘হারানো’ প্রায় ৭০০ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে শিগগিরই পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। কারা কত তথ্য দিলেন, কোন অস্ত্র উদ্ধার হলো—এসব মূল্যায়ন করে অর্থ অথবা সম্মাননা দেওয়ার পদ্ধতি ঠিক করবে একটি নতুন কমিটি, যেটি দুই সপ্তাহের মধ্যে গঠন করা হবে।

ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল—সবখানে ধারালো অস্ত্র, অপ্রতিরুদ্ধ ছিনতাই ও নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আলাদা অভিযানে ঢাকার তেজগাঁও বিভাগের ছয় থানায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন অপরাধী ধরার খবর দিয়েছে ডিএমপি; অন্যদিকে সড়কে নিয়ম না মানায় প্রাণ যাচ্ছে, মুন্সিগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে রবিবার রাতে মৃত্যু হয়েছে এক বাস সুপারভাইজারের। সরকারের বক্তব্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিককেও ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রেক্ষাপট

দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে মজুত প্রায় দুই লাখ আগ্নেয়াস্ত্রের একটি অংশ ডিউটির সময় হারিয়ে যায় বা ছিনতাই হয়। দায়সারা তদন্ত, জব্দ তালিকার গরমিল ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা মিলিয়ে অন্তত ৭০০ সার্ভিস অস্ত্র এখনো খোয়া আছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পর্যালোচনা। এসবের বেশির ভাগই পিস্তল ও শর্টগান, যেগুলো অপরাধীরা হাতবদল করে ব্যবহারের ঝুঁকি বেশি। ২০১৩ সালে সর্বশেষ বড় ধরনের অস্ত্র পুনরুদ্ধার অভিযান হয়েছিল; তারপর sporadic অভিযান চললেও পূর্ণাঙ্গ তালিকা-ভিত্তিক তল্লাশি হয়নি।

মূল তথ্য

দৈনিক আজাদির খবরে বলা হয়েছে, পুরস্কার প্রকল্পের কাঠামো চূড়ান্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র‍্যাব ও বিজিবির কর্মকর্তাদের নিয়ে সাত সদস্যের কমিটি হচ্ছে। যারাই নির্দিষ্ট অস্ত্র, সিরিয়াল নম্বর বা অবস্থান সম্পর্কে কার্যকর তথ্য দিতে পারবেন, তাঁদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের পরিমাণ এখনো জানানো না হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, একটি পিস্তলের তথ্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব আছে, ভারী অস্ত্রের ক্ষেত্রে তা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিক্রিয়া

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ মনে করেন, ‘অস্ত্র হারানোর জন্য শুধু সন্ত্রাসী নয়, বাহিনীর ভেতরকার গাফিলতিও দায়ী। পুরস্কার পদ্ধতি ভালো, তবে দায়িত্বহীন সদস্যদের জবাবদিহির ব্যবস্থাও জরুরি।’ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের উপপরিচালক নাজমুল আহসান বলেন, ‘গোপন তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা ইতিবাচক, কিন্তু সঠিক তদন্ত ও বিচার না হলে একই ঘটনা আবার ঘটবে।’

বৃহত্তর চিত্র

জননিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলে একই দিনে দুটি ভিন্ন খবর নজর কেড়ে বসে। প্রাথমিক আলোচ্য ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিএমপির বিশেষ অভিযানে তেজগাঁও অঞ্চলে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্তসহ ৪৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে প্রথোম আলোর প্রতিবেদন। অভিযানে চাপাতি ও সুইচগিয়ার ছুরিও মিলেছে। আবার সড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার চিত্র দেখিয়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে; বাংলাট্রিবিউনের তথ্যমতে, সেখানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে এক জন নিহত, তিন জন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ট্রাক ছাড়িয়ে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এই দুই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা—দুটো ক্ষেত্রেই নজরদারি জোরদারের তাগিদ সামনে আনছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন করে অস্ত্রধারী আনসার যোগ হবে। পুরস্কার ঘোষণার পর প্রথম ছয় মাসকে ‘টার্গেট পিরিয়ড’ গণ্য করে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি যাচাই করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাজেট অনুমোদন পেলে পুরস্কার বিতরণ শুরু হবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে। একই সঙ্গে বাহিনীর অস্ত্র ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার আপডেট ও বার্ষিক অডিট বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

More From Author

রাষ্ট্র কাঠামোর আগে ‘মানসিকতার সংস্কার’ জরুরি বলে মত দিলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন

চট্টগ্রাম বন্দরে রবি-এক্সেনটেকের ৫-জি ‘স্মার্ট পোর্ট’ চুক্তি, দক্ষতা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *