বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে বিষয় একীভূত করার প্রস্তাবে চবিতে বিক্ষোভ, ঢাবি-তেও প্রতিবাদ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ কয়েকটি স্বতন্ত্র বিষয়ের সঙ্গে অন্য বিভাগ একীভূত করার প্রস্তাব করেছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। একই দিন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশেও শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে স্লোগান দেন। তাঁরা বলেন, বিষয় মার্জ করলে ঐতিহ্য হারাবে, চাকরির সুযোগও কমবে। পিএসসি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ছাত্ররা আন্দোলন জোরদারের হুমকি দিয়েছে।
প্রেক্ষাপট
পিএসসি’র খসড়া সুপারিশে সমাজবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ কাছাকাছি পাঠ্যক্রমের বিভাগগুলোকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঙ্গে একীভূত করে একই ‘সাবজেক্ট গ্রুপ’ হিসেবে গণ্য করার ধারণা রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য—ক্যাডার কাঠামো সরলীকরণ ও পরীক্ষার বোঝা কমানো। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, ১৯২১ সাল থেকে পৃথক ডিসিপ্লিন হিসেবে যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে, তা আর্থসামাজিক বিশ্লেষণ ও গবেষণার নিজস্ব পরিসর তৈরি করেছে। অন্য বিভাগের সঙ্গে মেশাতে গেলে স্বাতন্ত্র্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নষ্ট হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
বিগত ৪৩তম বিসিএস-এ শিক্ষা ক্যাডারের ১২৭টি পদের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫টি, লোকপ্রশাসনের জন্য ৭টি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ৫টি। একীভূত প্রস্তাব কার্যকর হলে এই তিন বিভাগের জন্য সম্মিলিতভাবে ২০টি আসন দেওয়া হতে পারে—অর্থাৎ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিজস্ব সুযোগ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে শিক্ষার্থীদের হিসাব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে মোট অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ৩,৫০০ জন।
প্রতিক্রিয়া
চবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আব্দুল আউয়াল বলেন, “স্বতন্ত্রতা নষ্ট করলে আমরা রাস্তায়ই পড়াশোনা করব, তবু অন্যায় মানব না।” ঢাবির শিক্ষার্থী স্মৃতি রানী বর্মণ জানান, “রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আসনে অন্য বিভাগের আগ্রাসন বৈষম্য সৃষ্টি করবে।” অন্যদিকে পিএসসি সূত্র রায়টার্সকে জানায়, বিষয়টি এখনো ‘পর্যালোচনার পর্যায়ে’ আছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব পক্ষের মত নেয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, “বিষয় সমন্বয় করলে প্রশাসনিক কাজ সহজ হতে পারে, কিন্তু একাডেমিক বৈচিত্র্য হারানোর ঝুঁকি আছে।” টিআইবি’র শিক্ষা বিশেষজ্ঞ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্যাডার সংস্কার দরকার, তবে স্বতন্ত্র বিষয়গুলোকে সম্মিলিত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়—একীভূত নয়।” তিনি সুপারিশ করেন, এ বিষয়ে স্বচ্ছ গণশুনানি হওয়া উচিত।
এরপর কী
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছে, পিএসসি লিখিতভাবে প্রস্তাব ফিরিয়ে না নিলে আগামী সপ্তাহে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত কর্মসূচি চলবে, যার মধ্যে মানববন্ধন, অনশন ও অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ রয়েছে। পিএসসি বলেছে, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত করা হবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনিক টেবিল আর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর—দুটো মঞ্চেই উত্তেজনা বাড়তে পারে।

