আইনশৃঙ্খলা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ, তবু ফেব্রুয়ারির ভোটে আপত্তি নেই জামায়াতের

আইনশৃঙ্খলা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ, তবু ফেব্রুয়ারির ভোটে আপত্তি নেই জামায়াতের

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে রোববার (১০ আগস্ট) বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযোগী’ নয় এবং ভোটের পূর্বশর্ত হিসেবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঘোষিত ফেব্রুয়ারির ভোটসূচির বিরুদ্ধে দলের কোনো আপত্তি নেই। তিনি কুমিল্লা-১১ আসনের খসড়া সীমানা পরিবর্তনের বিরোধিতা করে আগের সীমানা বহাল রাখার আবেদনও জমা দেন। Taher further pressed for proportional representation and visible judicial reforms before the 13th parliamentary polls.

মূল তথ্য

দৈনিক আজাদী ও রাইজিংবিডির খবরে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে জামায়াত নেতারা সিইসির কাছে নয় দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— ১) প্রতিটি পর্যায়ে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২) নির্বাচনের আগে পুলিশের আচরণবিধি জারি, ৩) রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কঠোর নির্দেশনা, ৪) নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে রাখা, ৫) ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও সরাসরি মনিটরিং, ৬) ৩০০ আসনের মধ্যে কুমিল্লা-১১ সহ কয়েকটি আসনের খসড়া সীমানার পুনর্বিবেচনা, ৭) আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) ভোটপদ্ধতি চালু, ৮) ব্যবস্থাপনাগত ও বিচারিক সংস্কার অগ্রাধিকার, ৯) ঘোষিত ফেব্রুয়ারি তারিখ চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরেক দফা সংলাপ।

প্রেক্ষাপট

গেল সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন ৩০০ আসনের নতুন সীমানার খসড়া প্রকাশ করে এবং জানায় যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। খসড়া সীমানা নিয়ে আপত্তি জানানোর শেষ দিন ছিল রোববার। একই সঙ্গে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কারণে বিরোধী দলগুলো নিবিড় নজরদারির দাবি জানিয়ে আসছে। জামায়াত, যাদের নিবন্ধন বর্তমানে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ঝুলে আছে, তা সত্ত্বেও প্রতীকশূন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে লড়তে আগ্রহী বলছে।

প্রতিক্রিয়া

সিইসি নাসির উদ্দিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াতসহ সব দলের সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ ও নির্বাচনী তফসিল ডিসেম্বরেই দেব।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে ‘জীবনের বিনিময়েও’ অবাধ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেন। আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দলের একাধিক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের অংশগ্রহণ-পসন্দ অবস্থানকে ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতারা আলাদাভাবে জানান, ‘শুধু তারিখ নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীন ভোট হলেই অংশ নেব।’

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জামায়াতের বক্তব্য নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ‘শর্তসাপেক্ষ সহযোগী’ অবস্থানকে স্পষ্ট করে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ বলছেন, ‘ফেব্রুয়ারির তারিখ মেনে নেওয়া এক ধরণের কূটকৌশল; এতে দলটি নির্বাচনী বৈধতা দাবি করতে পারবে, আবার মাঠ সমতল না হলে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার পরিসরও রাখল।’ নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. আবদুস সালামের মতে, ‘আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে তাদের উদ্বেগ অমূলক নয়; ২০২৪-এর সিটি ভোটে সংঘর্ষের উদাহরণ এখনো টাটকা।’

এরপর কী

ইসি ১৫ আগস্ট থেকে আপত্তির শুনানি শুরু করবে এবং ৩০ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত মানচিত্র প্রকাশের কথা রয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে। অক্টোবরেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরেক দফা সংলাপের ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল ঘোষণা ও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণ। জামায়াত বলছে, ‘সেমিফাইনাল ও ফাইনালে’ কমিশন নিরপেক্ষতা দেখাতে পারলে তারা প্রার্থিতা জমা দেবে; না হলে সাংবিধানিক আন্দোলনের পথে যাবে।

More From Author

কলকাতায় ‘অফিস’ খুলে তৎপর আওয়ামী লীগ, সরকার বলছে নজরদারিতে—বিরোধী শিবিরেও চাঁদাবাজি ও ধর্ষণ-মীমাংসার ভিডিও ফাঁস

দুই ঘণ্টা দেরির জের, জান আলী হাটে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল পর্যটক ও প্রবাল এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *