ড. ইউনূস-হাসিনা দ্বন্দ্বের আঁচে লন্ডনের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, ঢাকায় দুর্নীতির মামলা ১১ আগস্ট শুনানি

ড. ইউনূস-হাসিনা দ্বন্দ্বের আঁচে লন্ডনের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, ঢাকায় দুর্নীতির মামলা ১১ আগস্ট শুনানি

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহু পুরোনো দ্বন্দ্বের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক’ দুর্নীতির মামলা আনা হয়েছে। ১০ আগস্ট লন্ডনে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঢাকার একটি বিশেষ আদালত ১১ আগস্ট তাঁর এবং আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন ঠিক করেছে, যদিও এখনো কোনো সমন তিনি হাতে পাননি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে।

প্রেক্ষাপট

গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সামরিক–সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে এর নেতৃত্ব নেন অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস। তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব দুই দশকের বেশি পুরোনো। সেই বৈরিতার ‘কলateral damage’ হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছেন শেখ পরিবারের সদস্য টিউলিপ। তাঁর দাবি, অনলাইন পোর্টালগুলোতে তাঁকে রূপপুর প্রকল্প থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের গল্পসহ নানা ‘মিথ্যা’ গল্পে জড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় মা-ভাই-বোনের নামে প্লট নেয়া, ২০০৪ সালে লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট “উপহার” পাওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাড়া বাড়ি বদলানো—সব কিছুই এখন দুর্নীতির অভিযোগের অংশ করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া

গার্ডিয়ানে টিউলিপ বলেন, “আমি অপরাধী নই, অথচ আমাকে একা বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে।” তিনি ব্রিটিশ ব্যারিস্টার হ্যুগো কিথ-কেসির আইনগত সহায়তা নিচ্ছেন, তবে ১১ আগস্ট ভার্চুয়াল বা সরাসরি হাজির হবেন কি-না, এখনো ঠিক করেননি। লন্ডনে লেবার সরকার তাঁর পক্ষে আছে বলে জানালেও “সরকারের বিভ্রান্তি এড়াতে” তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। উল্টো বাংলাদেশি প্রসিকিউটররা বলছেন, অভিযোগপত্র “পূর্ণাঙ্গ” এবং প্রয়োজনে অনুপস্থিতিতেই আদালত বিচার এগিয়ে নেবে। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস বলেছে, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও রায় হলে “আইনি বিকল্প” খোলা থাকবে।

বিশ্লেষণ

ঢাকায় রাজনৈতিক ও আইনগত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকদের অনুপস্থিতিতে বিচার চালানো খুবই বিরল ঘটনা এবং উচ্চ আদালতে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিদ ড. রানা দস্তগীর মনে করেন, “মামলাটি যতটা আইনি, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক—উভয় পক্ষই এটি নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে।” শেখ হাসিনা ও ইউনূসের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়; অথচ প্রথমবারের মতো সেটি কোনো পশ্চিমা সরকারের মন্ত্রীস্তরের রাজনীতিককে সরাসরি ছুঁয়ে গেল। ফলে বিষয়টি লন্ডন-ওয়াশিংটন-ব্রাসেলসসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় ঢুকে পড়েছে। টিউলিপের পদত্যাগ লেবার সরকারের অর্থনৈতিক দলকে সাময়িক ধাক্কা দিলেও, বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেন-বাংলাদেশ বাণিজ্য বা কনসুলার সম্পর্কের ওপর তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

এরপর কী

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করবেন কি-না, তার দিকেই সবাই তাকিয়ে। বিচার শুরু হলে সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্লট-সম্পদ ইত্যাদির কাগজপত্র সরকারকে দ্রুত উপস্থাপন করতে হবে; না পারলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। অন্যদিকে টিউলিপ যদি ভার্চুয়ালি হাজির হন, তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে অক্টোবরে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই আইনি অবস্থান পরিষ্কার করতে পারবেন। তবে তিনি অনুপস্থিত থাকলে আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়ে বিস্তৃত সময়সূচি ঘোষণা করতে পারে—যা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককেও হিমসিম খাওয়াতে পারে।

More From Author

কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুটবল ফাইলে মালয়েশিয়ার বিডিএফসি ৩–০ গোলে জয়ী

অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া সিরিজই কি কোহলি-রোহিতের শেষ ওডিআই?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *