ইসির প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৬ নতুন দল, মাঠে যাচাই শেষে সেপ্টেম্বরেই নিবন্ধন চূড়ান্তের লক্ষ্য
রোববার ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১৬টি রাজনৈতিক দল তাদের দেয়া কাগজপত্রে প্রাথমিক শর্ত পূরণ করেছে। এখন জেলা-উপজেলায় দলগুলোর অফিস, সদস্যপদ ও কর্মসূচি সরেজমিন যাচাই করবে ইসির তদন্ত দল। এই কাজ শেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২২ জুন পর্যন্ত ১৪৫টি দল নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করেছিল, অথচ সময়মতো সম্পূর্ণ আবেদনপত্র দিতে পেরেছে মাত্র ৮০টি, আর সেখান থেকে বাছাইয়ে টিকল ১৬টি।
মূল তথ্য
ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, বাছাই পেরোনো ১৬ দলের কাগজপত্র জেলা প্রশাসন, থানাসহ স্থানীয় দপ্তরগুলোতে যাচাই করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অসঙ্গতি ধরা পড়বে, তাদের আবেদন বাতিল হবে। শর্তগুলো হলো—(১) কমপক্ষে ২০০টি ইউনিয়নে কার্যকর কমিটি বা (২) শেষ জাতীয় নির্বাচনে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ভোট কিংবা (৩) একটি আসনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া। ১৬ দল এই তিনটির মধ্যে অন্তত একটিতে প্রমাণ দিয়েছে বলে দাবি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• মোট আবেদনকারী দল: ১৪৫
• কাগজপত্র জমা দিয়েছে: ৮০
• প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ: ১৬
• মাঠ যাচাই সম্পন্নের সময়সীমা: ৩১ আগস্ট (প্রায়)
• নিবন্ধন চূড়ান্তের লক্ষ্য: ১৫ সেপ্টেম্বর
• বর্তমান নিবন্ধিত দল: ৪৪
• সম্ভাব্য মোট দল সেপ্টেম্বরের পরে: ৬০ (সর্বোচ্চ সম্ভাব্য)
প্রেক্ষাপট
২০০৮ সালে নির্বাচন আইনে সংশোধনের পর থেকে নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর থাকে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে মাত্র তিনটি দল নতুন নিবন্ধন পেয়েছিল। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ছোট ও আঞ্চলিক বহু দল পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। সমমনা জোট গঠনের আগ্রহ বাড়ায় নিবন্ধনের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে ইসি একই সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬১ লাখে উন্নীত করেছে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতির আরেকটি ধাপ সম্পন্নের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিক্রিয়া
এনসিপির মহাসচিব রেজাউল করিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "নিবন্ধন মিললে আমরা তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে কাজ করব।" বাংলাদেশ জাস্টিস ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিজেডিপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় কমিটি গঠন করেছে। ইসির একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, "কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও মাঠ পর্যায়ে মিল না পেলে আবেদন বাতিল করতে আমাদের দ্বিধা নেই।" বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি, তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন দলগুলি ছোট ভোট ‑কাটার ভূমিকা রাখতে পারে।
এর গুরুত্ব কী
বাংলাদেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা বাড়লে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জোট-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ভোটে ৩৯ দল অংশ নিলেও ব্যালট পেপারে অনেক ‘অনিবন্ধিত’ প্রতীক বাদ পড়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ইসি সময়মতো প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আস্থার সাপোর্ট পাবে বলেই পর্যবেক্ষকদের ধারণা। একই সঙ্গে ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় তরুণ ভোটব্যাংক কেন্দ্র করে কৌশল সাজাতে হবে পুরনো ও নবীন—দুই ধারার দলকেই।
এরপর কী
• ১৫–৩১ আগস্ট: জেলা পর্যায়ের তদন্ত দল দলগুলোর অফিস, সভা-সমিতি, সদস্যসংখ্যা ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করবে।
• ৫–১০ সেপ্টেম্বর: কমিশন সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন ও আপত্তি শুনানি।
• ১৫ সেপ্টেম্বরের ভেতরে: নিবন্ধন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং গেজেট জারি।
• ৩১ আগস্ট ও ৩১ অক্টোবর: শেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ।
সবকিছু ঠিকঠাক চললে নভেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে দলের নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা—দুই মূল প্রস্তুতিই সম্পন্ন হবে।

