সীতাকুণ্ডে সাংবাদিক মাহমুদুল হকের স্মরণ, গাজীপুরে সহকর্মী হত্যায় ৭ আসামি রিমান্ডে

সীতাকুণ্ডে সাংবাদিক মাহমুদুল হকের স্মরণ, গাজীপুরে সহকর্মী হত্যায় ৭ আসামি রিমান্ডে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব শনিবার বিকেলে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রামের সাবেক প্রতিনিধির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা আয়োজন করে। বক্তারা মাওলানা মাহমুদুল হককে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক ও মানবসেবক হিসেবে স্মরণ করেন। একই দিন গাজীপুরের একটি আদালত দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামির প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে। দুই জেলার দুটি ঘটনা একত্রে দেশের স্থানীয় সাংবাদিকতার অবদান ও ঝুঁকি—দুটি দিকই সামনে এনেছে।

পটভূমি

মাওলানা মাহমুদুল হক ১৯৯০-এর দশকে সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব গড়ে তোলেন এবং প্রায় দুই দশক দৈনিক ‘সংগ্রাম’-এর স্থানীয় প্রতিনিধি ছিলেন। ২০১৭ সালের এই দিনে ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার স্মরণে প্রতিবছর ক্লাবটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। এ বছরের অনুষ্ঠানটি হয়েছে প্রেস ক্লাব হলরুমে, সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

ঘটনাপ্রবাহ

স্মরণসভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তরের সভাপতি মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘মাহমুদুল হক কলমকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন, কোনোদিন গুজব বা অনৈতিক প্রচারণায় জড়াননি।’ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, পৌর কাউন্সিলর শামছুল আলম আজাদসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা হয়।

বৃহত্তর চিত্র

স্মরণ সভার মধ্যেই সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে শংকা নতুন করে সামনে এসেছে গাজীপুরের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে। শনিবার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামি মিজান ও তার স্ত্রী পারুলসহ সাতজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, ‘ব্যবসায়িক বিরোধ’ থেকে এই হামলা হয়। সংবাদ পেশাকে কেন্দ্র করে সহকর্মী হত্যার ঘটনা সাংবাদিক মহলে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

প্রতিক্রিয়া

সীতাকুণ্ডের সভায় বক্তারা তুহিন হত্যার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেন। প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মীর দিদারুল হোসেন বলেন, ‘মাহমুদুল হক সাহসের সঙ্গে কলম ধরেছিলেন, তুহিনও ধরেছিলেন; তাদের স্মরণ করার সেরা উপায় হলো সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’bangladesh ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন পৃথক বিবৃতিতে অবিলম্বে চার্জশিট এবং দ্রুত ট্রায়ালের দাবিও জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• সীতাকুণ্ডে স্মরণ সভায় অংশ নেন প্রায় ১৫০ জন।

• মাহমুদুল হক ৩৫ বছর সাংবাদিকতা করেছেন, এর মধ্যে ২০ বছর ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর প্রতিনিধিত্ব করেন।

• গাজীপুরের তুহিন হত্যা মামলায় ৭ জন আসামি, প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর।

• রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সের ২০২3 সূচকে বাংলাদেশ ১৬৩ তম—পূর্ব সালের তুলনায় ১০ ধাপ নিচে।

এরপর কী

সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব ‘মাহমুদুল হক সাংবাদিকতা বৃত্তি’ নামে একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তরুণ রিপোর্টাররা স্থানীয় দ্বৈত চাপ—রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ— মোকাবিলা করে প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দিতে চায় বলে জানিয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করেছে।

শেষ কথা

একদিকে একজন বর্ষীয়ান সংবাদকর্মীর স্মৃতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে একজন তরুণ রিপোর্টারের রক্তাক্ত মৃত্যু—দুটি ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়, দেশে মুক্ত ও নিরাপদ সাংবাদিকতার জন্য এখনও লম্বা পথ বাকি। স্মরণসভায় উচ্চারিত বক্তব্যগুলোর সারমর্ম দাঁড়ায়: ‘সত্য লেখার দরজা খুলে রাখতেই হবে, তবে সেই পথটাকে সুরক্ষিত করাও এখন সময়ের দাবি’।

More From Author

আট উপদেষ্টার দুর্নীতি অভিযোগে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে উত্তাপ

ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে মোদি ও সি–কে ফোন করে সমর্থন চাইছেন পুতিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *