ড্যাব নির্বাচন: হারুন–শাকিল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়ে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব

ড্যাব নির্বাচন: হারুন–শাকিল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়ে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব

শনিবার ৯ আগস্ট ঢাকা কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরাসরি ভোটে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)–এর পাঁচ শীর্ষ পদে হারুন–শাকিল পূর্ণ প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা ভোটে ৩,১১৭ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ২,৬০০ জন ভোট দেন। রাত সাড়ে ১২টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ফল ঘোষণা করেন। এতে অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ সভাপতি ও ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল মহাসচিব নির্বাচিত হন।

প্রেক্ষাপট

ড্যাব ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটি দলীয় আন্দোলন-সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভোটের সময় মাঠপর্যায়ে চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে। ২০১৯-২৫ মেয়াদে হারুন নেতৃত্বে ছিল; তারও আগে ২০০৫-১১ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন পরাজিত প্যানেলের প্রার্থী ডা. এ কে এম আজিজুল হক। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ড্যাবের ভোট গণতান্ত্রিক চর্চার পাশাপাশি বিএনপির ভেতরকার ক্ষমতার ভারসাম্যও নির্দেশ করে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• মোট ভোটার: ৩,১১৭

• ভোট পড়েছে: প্রায় ২,৬০০

• পদসংখ্যা: ৫ (সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)

• জয়ী ভোট:

– সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ ১,৩৬৯

– মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল ১,৪৫৮

– সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. আবুল কেনান ১,৩৩০

– কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান ১,৩১২

– সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. এ কে এম খালেকুজ্জামান দিপু ১,৩১৬

• আজিজ–শাকুর প্যানেলের সর্বোচ্চ ভোট ১,২৫৯ হলেও কোনো পদে জয় আসেনি।

প্রতিক্রিয়া

ফল ঘোষণার সময় প্রধান কমিশনার বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘ডাক্তারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ড্যাবের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান ভোটগ্রহণকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। নবনির্বাচিত সভাপতি ডা. হারুন জানান, ‘চিকিৎসক সমাজের অধিকার ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবো।’ বিপক্ষ প্যানেলের নেতা ডা. আজিজুল হক ফল মেনে নিয়ে বলেন, ‘ভোটারদের রায়কে সম্মান জানাই; সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করব।’

এরপর কী

নতুন কমিটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠন করবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করতে মাঠে নামবে। বিএনপির আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চিকিৎসা সহায়তা টিম গঠন, সরকারবিরোধী দাবিতে জনসচেতনতামূলক সেমিনার ও স্বাস্থ্যনীতি প্রস্তাব প্রস্তুত করা তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে অনলাইন নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে নবনির্বাচিত নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

More From Author

ক্রীড়াঙ্গনে ‘মালির যত্ন’ চান গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ, জাতীয় নীতি তৈরির আহ্বান

মালয়েশিয়া সফরে ইউনূস: প্রতিরক্ষা-জ্বালানি সহ ৫ সমঝোতা স্মারকে সইয়ের প্রস্তুতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *