উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ, প্রমাণ চাইল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে জারিকৃত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবিএম আবদুস সাত্তার ‘নাম উল্লেখ না করে’ যে সব অভিযোগ প্রকাশ করেছেন, সেগুলো অনভিপ্রেত ও ভিত্তিহীন। তিনি অভিযোগকারীর কাছে ‘যথাযথ আইনগত ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের’ কাছে সরাসরি প্রমাণ জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। সচিবের বক্তব্য, অনুমান নির্ভর মন্তব্য জনআস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রেক্ষাপট
গত সপ্তাহে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম আবদুস সাত্তার দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কয়েকজন উপদেষ্টা সরকারি প্রকল্প থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। কারও নাম উল্লেখ না করলেও বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশ্ন ওঠে—কোন উপদেষ্টারা জড়িত, আর কোন প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’-এ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করেন, "আমাদের প্রশাসন স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রমাণ ছাড়া এমন সাধারণীকৃত অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন"। তিনি আরও বলেন, "অভিযোগটির নির্ভরযোগ্য দলিল-দস্তাবেজ থাকলে সেগুলো দ্রুত দাখিল করুন। না হলে তথ্যবর্জিত আলোচনায় না জড়ানোই শ্রেয়"। সচিবের বক্তব্যের পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকেও অভিন্ন সুরে বলা হয়, অভিযোগকারীর উচিত তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আদালত বা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যাওয়া।
এর গুরুত্ব কী
দেশে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে সংশয় তৈরি করতে পারে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন–উত্তর প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নাম-ঠিকানা ও তথ্য ছাড়া যেকোনো অভিযোগই রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে—তাতে সত্যিকারের দুর্নীতির অনুসন্ধানও দুর্বল হয়। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে: যাচাই না করে এমন মন্তব্য ছাপা হলে ভোক্তাদের ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানাচ্ছে, অভিযোগকারীর কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত দলিল আসেনি। তবে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা নিজেরাই প্রাথমিক খোঁজ নিতে পারে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল ‘কে কী বলেছেন’ তা নয়, সত্যিকারের দুর্নীতির ইঙ্গিত থাকলে সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনুসন্ধান করবে। অপরদিকে, আবদুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চাইছে, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার হোক—অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা, আর মিথ্যা হলে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

