UCLA গ্রন্থাগার থেকে ৬০০ বছরের চীনা পান্ডুলিপি চুরি, ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক ১

UCLA গ্রন্থাগার থেকে ৬০০ বছরের চীনা পান্ডুলিপি চুরি, ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক ১

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (UCLA)-র বিশেষ সংগ্রহ গ্রন্থাগার থেকে শত শত বছরের বিরল চীনা পান্ডুলিপি চুরির অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী জেফ্রি ইয়িংকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা। বিচার বিভাগ জানায়, ইয়িং বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ২০২3-২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে সাতটি দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ আসল থেকে বদলে নকল কপি জমা দিয়ে পাল্টে ফেলেন। জব্দ করা দলিলে দেখা যায়, চুরি হওয়া পান্ডুলিপিগুলোর মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১৬ হাজার ডলার (প্রায় ২৩ কোটি টাকা)। অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলাটি লস অ্যাঞ্জেলেস ফেডারেল আদালতে চলবে।

পটভূমি

UCLA-র ‘ইস্ট অ্যাপসায়া লাইব্রেরি স্পেশাল কালেকশন’-এ প্রাচীন চীনা ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কিত কয়েক হাজার হাতে লেখা পান্ডুলিপি সংরক্ষিত। সুরক্ষিত টেবিলে বসে কেবল পাঠের অনুমতি থাকায় বইগুলো বাড়ি নেওয়া নিষিদ্ধ। পুলিশ বলছে, জেফ্রি ইয়িং নিয়মিত গবেষকের ভিসিটর কার্ড বানিয়ে ওই ঘরেই কাজ করতেন, ফলে প্রহরীদের সন্দেহ জাগেনি।

কিভাবে এই পর্যন্ত এলাম

তদন্ত অনুযায়ী ইয়িং কখনও ‘অ্যালান ফুজিমোরি’ আবার কখনও ‘জেমস চেন’ পরিচয়ে ভর্তি-রেজিস্টারে সই করতেন। তিনি আসল পান্ডুলিপি বের করে এনে কয়েক দিনের মধ্যে স্ক্যান করে নকল ছাপা বানিয়ে পাতায় লাইব্রেরির হোলোস্ট্যাম্প বসাতেন, পরে আসল কপির জায়গায় সেটি গোপনে রেখে দিতেন। বইয়ের ভেতরের ‘অ্যাসেট ট্যাগ’ পর্যন্ত নকল করা হয়েছিল। নিখোঁজ কপিগুলো খুঁজতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা ফুটেজে তাঁর উপস্থিতি মেলাতে পারে; সেখান থেকেই ফেডারেল তদন্ত শুরু হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• ৬০০+ বছর: প্রাচীনতম চুরি হওয়া পান্ডুলিপির বয়স

• ৭ কপি: এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থ

• ২.১৬ লক্ষ ডলার: অনুমানিক বাজারমূল্য (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৩ কোটি)

• ১০ বছর: দোষী সাব্যস্ত হলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ

প্রতিক্রিয়া

UCLA-র মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এসব নিদর্শন উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আমরা নিরাপত্তা পদ্ধতি ঢেলে সাজাচ্ছি।” বিচার বিভাগ জানায়, ইয়িংয়ের হোটেল কক্ষে বই নকলের যন্ত্র, ফাঁকা খাঁটি কাগজ, এবং বহু লাইব্রেরি কার্ড পাওয়া গেছে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে; অনেকে দাবি করছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান ‘আর্ট মার্কেট’ এ ধরনের চুরি উসকে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

নিউ ইয়র্কভিত্তিক আর্ট ক্রাইম গবেষক ডাঃ কেটি পল রויטার্সকে বলেন, “চীনা সংস্কারপন্থী মধ্যবিত্তের সংগ্রহে আগ্রহ বিশ্বব্যাপী কালেক্টর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ফলে প্রমাণযোগ্য উৎস না থাকলেও এসব পান্ডুলিপির জন্য উচ্চ মূল্য দেওয়া হয়।” UCLA-র গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের অধ্যাপক রস ম্যাকগুয়ায়ার বলেন, “ডিজিটাল স্ক্যান সহজলভ্য হওয়ায় নকল-আসল আলাদা করা কঠিন হচ্ছে; লাইব্রেরিকে বায়োমেট্রিক প্রবেশ এবং RFID ট্যাগে যেতে হবে।”

এরপর কী

ফেডারেল কোর্ট ইয়িংকে সামনের সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করবে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে চাইছেন, হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলো বিদেশে পাচার হয়েছে কিনা। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে। UCLA ইতিমধ্যে বিশেষ সংগ্রহ বিভাগ তিন মাসের জন্য গবেষক প্রবেশ সীমিত করেছে এবং সব দুর্লভ গ্রন্থের অবস্থা যাচাই-সূচি শুরু করেছে।

More From Author

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন: ১৯ বছরে তৃষ্ণা–কৃষ্ণার পথচলার গল্প

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড: তিনজনসহ মোট সাত গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন গতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *