৮-০ গোলের উড়ান, তবু ‘বাতিল’ গোল নিয়ে বিতর্কে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েরা
লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৮ আগস্ট) এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক করেছেন পঞ্চগড়ের স্ট্রাইকার তৃষ্ণা রানী; একটি করে গোল স্বপ্না, সাগরিকা, শান্তি মার্ডি, সিনহা জাহান শিখা ও নবিরন খাতুনের। দুই ম্যাচে টানা জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে পিটার বাটলার–কোচিত দল।
তবে ৯৪ মিনিটে স্বপ্না রানীর ফ্রি-কিক গোললাইন পেরিয়ে এলেও সহকারী রেফারি পতাকা তুলতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বড় জয় সত্ত্বেও বাতিল গোলটি পরে গোল পার্থক্য সমীকরণে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিতলেই বাংলাদেশের প্রথমবার ফাইনাল রাউন্ড নিশ্চিত; ড্র করলে রানার্স-আপ হলেও সেরা তিন রানার্স-আপের একটি হয়ে উঠতে পারবে।
মূল তথ্য
বাংলাদেশ ৮ – পূর্ব তিমুর ০
ম্যাচ ভেন্যু: লাও ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, ভিয়েনতিয়েন
গোল: তৃষ্ণা রানী 45+1’, 57’, 82’; শিখা 20’; শান্তি মার্ডি 32’; নবিরন 36’; সাগরিকা 73’; স্বপ্না 90+6’ (রেফারি বাতিল হিসেবে গণ্য করেননি)
পয়েন্ট তালিকা (২ ম্যাচ শেষে): বাংলাদেশ ৬, দক্ষিণ কোরিয়া ৬, লাওস ০, পূর্ব তিমুর ০। গোল পার্থক্য সমান (+১০) হলেও বেশি গোল দেওয়ায় শীর্ষে লাল-সবুজরা।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
৮ – এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯/২০ আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।
৩ – তৃষ্ণা রানীর ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক; টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪ গোল।
২ – ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পোস্টে শট গেছে মাত্র দুইটি; দুটিই অফ-টার্গেট।
১ – সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া গোল, যা আগের ম্যাচে লাওসকে ৩-১ হারানোর পর দলের মোট গোল ১২-এ দাঁড় করাতে পারত।
ঘটনাপ্রবাহ
২০ মিনিটে স্বপ্নার কর্নার থেকে শিখার হেডে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩২ মিনিটে বাঁ পায়ের কর্নার কিক সরাসরি জালে জড়িয়ে ‘অলিম্পিক গোল’ করেন শান্তি মার্ডি। চার মিনিট পর একই কৌশলে নবিরনের হেডে ৩-০। প্রথমার্ধের যোগ সময়ে দলকে স্বস্তি দেন তৃষ্ণা। বিরতির পর ৫৭ ও ৮২ মিনিটে আরও দুইবার স্কোরশিটে নাম লিখিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ৭৩ মিনিটে সাগরিকা ডিফেন্ডার ও কিপারকে কাটিয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে স্বপ্নার ফ্রি-কিক ক্রসবার পেছনে পড়ে গোললাইন অতিক্রম করে ফিরে এলেও সহকারী রেফারি গোল সঙ্কেত না দিলে ৮-০তেই শেষ হয় ম্যাচ।
প্রেক্ষাপট
এইচ গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি ২০২৬ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে। রানার্স-আপদের মধ্য থেকে সেরা তিন দলও পাবে টিকিট। লাওসকে ৩-১ ও পূর্ব তিমুরকে ৮-০ হারিয়ে বাংলাদেশের গোল পার্থক্য +১০ (১১-১)। দক্ষিণ কোরিয়া ১০ গোল দিয়েও একটি গোল হজম করায় সমান পার্থক্যে পিছিয়ে। শেষ ম্যাচে জয় মানেই সরাসরি চূড়ান্ত পর্ব, ড্র করলেও সেরা রানার্স-আপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। হারলে অন্য গ্রুপের ফলের উপর নির্ভর করতে হবে, তখনই সহকারী রেফারির ‘না-দেওয়া’ গোলের মাশুল গুনতে হতে পারে।
প্রতিক্রিয়া
সহকারী কোচ সাবিনা খাতুন ম্যাচশেষে লাওস-ভিত্তিক সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা জিতেছি, কিন্তু বাতিল গোলটি আমাদের মাথায় রয়েছে। শেষ মুহূর্তে গোল পার্থক্যই ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।”
দৈনিক নয়াদিগন্ত ও জনকণ্ঠকে দেওয়া মন্তব্যে ক্যাপ্টেন আফঈদা খন্দকার বলেন, “রেফারির ভুল হতেই পারে, আমাদের কাজ কোয়ালিফাই করা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটই লড়াই চলবে।”
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এএফসিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।
এরপর কী
১০ আগস্ট (রবিবার) একই স্টেডিয়ামে দুপুর ৩টায় হবে গ্রুপ ফাইনাল—বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া। জিতলে বাংলাদেশ প্রথমবার এই প্রতিযোগিতার মূল আসরে, ড্র করলে অপেক্ষা থাকবে অন্য গ্রুপের ফলের।
ফেডারেশন ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের জন্য জয়ী হলে বোনাস ঘোষণা করেছে। এর বাইরে লিভারপুল-সংশ্লিষ্ট স্পোর্টস সায়েন্স প্রতিষ্ঠান ‘নেক্সটপ্রো’ দলকে পরবর্তী প্রস্তুতি শিবিরে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে।

