২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালমুখী ৩২৫ জন

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালমুখী ৩২৫ জন

ঢাকা, ৯ আগস্ট—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৩২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ভর্তি রোগী ৯৫ জন, বাকিরা রাজধানীর বাইরে। একই সময় ৩০৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৩,৭৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি এবং ৯৮ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ ইতিহাসগতভাবে বাড়ে, তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এটি এখন সারা বছরই বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী এবং ১,৭০৫ জন মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছিল, যা পরিস্থিতির মারাত্মকতা বোঝায়। চলতি বছর এখনও সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও বর্ষা ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গে রোগী বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া অফিস বলেছে, বৃষ্টি কিছুটা কমলেও তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম বাড়বে, যা এডিস মশার বংশ বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৩ জন

• ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি: ৩২৫ জন

– ঢাকা উত্তর সিটি: ৩৩

– ঢাকা দক্ষিণ সিটি: ৬২

– ঢাকা বিভাগ (সিটি এলাকার বাইরে): ৪৯

– বরিশাল বিভাগ: ৬৬

– চট্টগ্রাম বিভাগ: ৫৪

– খুলনা: ১৪, ময়মনসিংহ: ৬, রাজশাহী: ৪১

• ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র: ৩০৬ জন

• বছরে মোট ভর্তি (৯ আগস্ট পর্যন্ত): ২৩,৭৩৫ জন

• বছরে মোট সুস্থ: ২১,৭৯৯ জন

• বছরে মোট মৃত্যু: ৯৮ জন

বিশেষজ্ঞদের মতামত

অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান (রেফারেন্স: অর্থসূচক) বলেন, "ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়; নগরায়ণ ও আবহাওয়া পরিবর্তনে এটি এখন বারোমাসি চ্যালেঞ্জ।" তাঁর পরামর্শ, বাড়ি ও অফিস চত্বরে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া এবং মশা নিরোধক ওষুধ নিয়মিত স্প্রের পাশাপাশি সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বিশ্লেষণ করেন, "জেলা ও সিটি পর্যায়ে জরিপ করে কোথায় লার্ভা বেশি, সেটি মানচিত্র আকারে প্রকাশ করা জরুরি। শুধু জেল–জরিমানা নয়, দক্ষ জনবলের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।" তিনি বলেন, পরীক্ষিত কীটনাশক ব্যতীত বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার মশা প্রতিরোধে ফল দেয় না, বরং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এরপর কী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকাসহ ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করেছে এবং সিটি করপোরেশনগুলো আগামী এক সপ্তাহ গাড়ি, নির্মাণখানা ও বাসাবাড়িতে যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ১২ আগস্টের পর আবারও মাঝারি বৃষ্টি বাড়তে পারে, তাই কর্তৃপক্ষকে আগেই স্যাঁতসেঁতে স্থানে জমা পানি অপসারণের তাগিদ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিযান যতই জোরাল হোক, বাসিন্দারা নিজের ছাদ, বারান্দা ও ড্রেন পরিষ্কার না রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। স্কুল–কলেজে সচেতনতা ক্লাস, মসজিদ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বাড়ানোর সুপারিশও দিয়েছেন তারা।

More From Author

‘প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা ২০২৫’: ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা থেকে শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর প্রত্যয়

চাকরিচ্যুতি নিয়ে উত্তেজনা: এস আলম তেল কারখানা ও আল-আরাফাহ ব্যাংকে কর্মীদের বিক্ষোভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *