সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে ঝিনাইদহে কালোকাপড়পরা মৌন মিছিল
রোববার সকাল ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে মানববন্ধন ও মৌন মিছিলে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দাঁড়ান প্রায় এক শতাধিক সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক। তাদের দাবি—গাজীপুরে নিহত টেলিভিশন সাংবাদিক তুহিন আহমেদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সাংবাদিক নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থামাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ। কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মডার্ন মোড়ে সমাবেশ করেন।
পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত সপ্তাহে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেলে ৩৫ বছর বয়সী সাংবাদিক তুহিন আহমেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি ছিলেন এবং অনলাইন পোর্টালে লেখালেখিও করতেন। ঘটনার পরদিনই তার পরিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে, তবে এখনো বড় কোনও গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি।
প্রতিক্রিয়া
রোববারের কর্মসূচিতে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিয়ন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুজন’–এর প্রতিনিধিরা একযোগে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, ‘‘তুহিন হত্যার তদন্তে যদি গাজীপুর পুলিশ ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি র্যাব বা সিআইডিকে দিতে হবে।’’ মিছিলে মর্নিং বেল চিলড্রেন একাডেমির শিক্ষার্থীরা ছোট প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয়, যেখানে লেখা ছিল ‘সত্য বলার অপরাধে মৃত্যু নয়’। মানববন্ধনের সময় ১০ মিনিট নীরব থেকে অংশগ্রহণকারীরা সংবাদমাধ্যমের প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদ জানান।
বৃহত্তর চিত্র
সাংবাদিক সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের (আরএসএফ) ২০২3 সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলছে, গত এক দশকে দেশে অন্তত নয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন; অধিকাংশ ঘটনার বিচার অমীমাংসিত। গবেষকরা মনে করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার সাংবাদকর্মীদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তুহিন হত্যাকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ঝিনাইদহের বিক্ষোভ থেকে চার দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে: ১) তুহিন হত্যার দ্রুত বিচার, ২) সাংবাদিকদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, ৩) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কার, ৪) প্রত্যেক জেলায় সাংবাদিক নিরাপত্তা সেল গঠন। সংগঠনের আহ্বায়ক এমআর রাসেল বলেন, ‘‘আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্তে অগ্রগতি না হলে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দেওয়া হবে।’’ meanwhile, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও জড়িতদের ধরতে কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং শিগগিরই ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ জানানো হবে।

