শেরপুরে স্ত্রীকে জীবন্ত কবরের চেষ্টা, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্বামীর ‘ভুলের’ স্বীকারোক্তি
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া গ্রামে ৮ আগস্ট ৮০ বছর বয়সী খলিলুর রহমান পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রী খোশেদা বেগমকে (৭০) পিট ও মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তাদের নাতি খোকন মিয়া; ক্লিপটি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
রাইজিংবিডির খবর অনুযায়ী, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর খলিলুর দাবি করেন, তিনি স্ত্রীকে ভয় দেখাতে গিয়েই ‘ভুল’ করে ফেলেছেন। ২০ বছর ধরে অসুস্থ ও ছয় বছর ধরে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী স্ত্রীকে একাই সেবা করছেন বলে জানান তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন খাবার সহায়তা দেয়, পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়টি দেখে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের না করায় মামলা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে শ্রীবরদী থানা।
পটভূমি
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই দিন দুপুরে খোশেদা বেগম বিছানায় মলত্যাগ করলে ক্ষিপ্ত হন খলিলুর। বাড়ির পেছনে আগে খোঁড়া একটি ছোট গর্তে স্ত্রীকে নামিয়ে মাটি চাপা দিতে শুরু করেন। Passers-by এবং পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তিনি কাজ থামান। মোবাইলে দৃশ্য ধারণ করা নাতি খোকন পরে ক্লিপটি ফেসবুকে আপলোড করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়।
প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি প্রকাশের পর গ্রামে তীব্র নিন্দা শুরু হয়। কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল্লাহ বললেন, “খলিলুর দীর্ঘদিন স্ত্রীকে সেবা করেছেন, কিন্তু হয়তো হতাশা ও দারিদ্র্যের চাপে এমন করেছেন।” শ্রীবরদী থানার ওসি মো. আনোয়ার জাহিদ জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিক বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। লিখিত অভিযোগ পেলে দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ধারায় মামলা হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বৃদ্ধ দম্পতিকে বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।
বিশ্লেষণ
জেরাইন্টোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. রিতা দাস বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘কেয়ারগিভার বার্ন-আউট’ সাধারণ ব্যাপার, যা মানসিক অবসাদ ও হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ও প্রবীণ আইন ২০১৩-এ বৃদ্ধ নির্যাতন শাস্তিযোগ্য অপরাধ; তবে অপরাধ প্রমাণে ভুক্তভোগী বা স্বজনের অভিযোগ প্রয়োজন, যা গ্রামের বাস্তবতায় অনেক সময় পাওয়া যায় না। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পল্লি এলাকায় বয়স্ক-সেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এই ধরনের ঘটনা বাড়াচ্ছে।
এরপর কী
ইউএনওর কার্যালয় দম্পতির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন বা কোনও বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে জায়গা মিলিয়ে দেওয়ার পথ দেখছে। স্থানীয় সমাজসেবা অফিস খলিলুর রহমানকে বয়স্কভাতার তালিকায় অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। meanwhile, পুলিশ ভিডিওধারী নাতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। লিখিত অভিযোগ না আসলেও ঘটনাটি থানার সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মামলা করলে তদন্ত সহজ হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• খলিলুর রহমানের বয়স: ৮০ বছর
• স্ত্রীর অসুস্থতার মেয়াদ: ২০ বছর
• সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত: ৬ বছর
• ঘটনার তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২5
• পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তান বিদেশে: ২ জন, মাসে গড় পাঠান ২–৪ হাজার টাকা
• ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় মাটি চাপা দেওয়ার সময়কাল: আনুমানিক ২ মিনিট

