শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, দুজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, দুজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

রোববার ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের জগতপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মনির হোসেন (২৩) ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরেক যাত্রী রুমানা বেগম (১৮) ও আরিফুল হক (২৪)। পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত রুমানাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আরিফুলকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে। নিহত মনিরের বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতান মাহমুদপুর গ্রামে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সড়কে ভিড় জমান, পরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ঘটনাপ্রবাহ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ থেকে ছেড়া সিএনজি অটোরিকশাটি তিনজন যাত্রী নিয়ে হবিগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময় বিপরীত দিক থেকে মালবোঝাই একটি পিকআপ আসে। জগতপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় অটোরিকশাটি দড়ার মতো উল্টে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে মনির হোসেনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়; তাঁর দেহ অটোরিকশার ধাতব অংশের সঙ্গে আটকে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে বের করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠান।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

১ জন নিহতঃ মনির হোসেন (২৩)। ২ জন গুরুতর আহতঃ রুমানা বেগম (১৮), আরিফুল হক (২৪)। দুর্ঘটনার সময়ঃ ১০ আগস্ট, রাত ৯টা ৩০ মিনিট (প্রায়)। দুর্ঘটনার স্থানঃ জগতপুর, শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক। হাসপাতালে পাঠানোঃ রুমানা—সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল, আরিফুল—হবিগঞ্জ সদর আধুনিক।

প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে মহাসড়কে অটোরিকশা ও পিকআপ—দুটি ভিন্ন গতির যান—একই লেনে চলার কারণে এমন সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে। সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের ৪৫ শতাংশ দুর্ঘটনাতেই জড়িত ছিল ছোট আকারের নন-মোটরাইজড বা লো-স্পিড যান। শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে রাতের বেলায় অতিরিক্ত গতিতে চলার প্রবণতা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কে আলাদা লেন না থাকায় ছোট যানবহনের চালকেরা সব সময় ঝুঁকিতে থাকেন।

প্রতিক্রিয়া

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি দীলিপ কান্ত নাথ রয়টার্সকে বলেন, 'পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে, চালকের অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিই ঘটনার জন্য দায়ী।' নিহত মনিরের মামা আবদুল করিম অভিযোগ করেন, রাস্তায় পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট না থাকায় চালকেরা সময়মতো একে অপরকে দেখতে পারেননি। স্থানীয় উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক সেলিম মিয়া সড়কে স্পিডব্রেকার ও ট্রাফিক পুলিশ পোস্ট স্থাপনের দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এরপর কী

পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮ ধারায় পিকআপচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিবর্তন, যেমন সড়কপথে ওভারটেকিং জোন নির্ধারণ ও এলইডি লাইট স্থাপনের সুপারিশ করা হতে পারে। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পেতে সাহায্য করতে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) চিঠি দেওয়ার কথাও বলেছে পুলিশ।

More From Author

ভোট ‘চুরি’ অভিযোগে দিল্লিতে ইসির কার্যালয়ের দিকে বিরোধী এমপিদের পদযাত্রা

তুরস্কের বালিকেসিরে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত্যু ১, আহত অন্তত ২৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *