মালয়েশিয়া সফরে কর্মী পাঠানো ও বিনিয়োগ আনাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা

মালয়েশিয়া সফরে কর্মী পাঠানো ও বিনিয়োগ আনাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা

প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার (১১ আগস্ট) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আয়োজিত এ সফরে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি ব্রিফিং অনুযায়ী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বাড়ানো ও জ্বালানি সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী স্তরের বৈঠক শেষে ঢাকার পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে আনোয়ার ইব্রাহিম এসব চুক্তিতে সাক্ষী থাকবেন। ১৩ আগস্ট দেশে ফিরবেন ডা. ইউনূস।

প্রেক্ষাপট

মালয়েশিয়া বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান শ্রমবাজার। বাংলাদেশি কর্মীরা নির্মাণ, সেবা ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন; বছরে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে এ দেশ থেকে। অন্যদিকে ঢাকার জন্য মালয়েশিয়া সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র, বিশেষ করে হালাল ফুড, জ্বালানি ও সেমি–কন্ডাক্টর শিল্পে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রধান কৌশল।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• ৩ দিনের সফর (১১–১৩ আগস্ট)।

• ৫টি সমঝোতা স্মারক: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এফবিসিসিআই–এমআইসিসিআই ব্যবসায়িক কাউন্সিল, বিএমসিসিআই–এমআইএমওএস প্রযুক্তি সহযোগিতা, বিআইআইএসএস–আইএসআইএস গবেষণা বিনিময়।

• ৩টি নোট অব এক্সচেঞ্জ: হালাল ইকোসিস্টেম, উচ্চশিক্ষা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ।

• বাংলাদেশি নতুন কর্মী নিয়োগে ২৫ % বৃদ্ধি ও দু’দেশের বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য।

এরপর কী

সোমবার বিকেলে কুয়ালালামপুর পৌঁছেই গার্ড অব অনার পাবেন ডা. ইউনূস। মঙ্গলবার সকালে একান্ত বৈঠক ও পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় এমওইউগুলোর খসড়া চূড়ান্ত হবে। একই দিন রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস ফোরাম’ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পাম অয়েল, বায়ু-বিদ্যুৎ ও হালাল ফুডে যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। বুধবার সকালে ইউনিভার্সিটি কেবাঙ্গাসান মালয়েশিয়া তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করবে; দুপুরেই ঢাকায় ফেরার কথা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ৬ মাসের মধ্যে এমওইউ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশনা দেবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

বিশ্লেষণ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে রিজার্ভ স্থিতিশীল হলেও বিনিয়োগ প্রবাহ এখনও সন্তোষজনক নয়। জ্বালানি-সহযোগিতা ও সেমি-কন্ডাক্টর খাতে মালয়েশিয়ার আগ্রহ রূপ নিলে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। শ্রমনীতি গবেষকরা বলছেন, নতুন কর্মী নিয়োগ চুক্তিতে কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও ন্যূনতম মজুরি সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট না করলে আগের মতো ভিসা জটিলতা ও দালালি বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল লক্ষ্য রাখছে— ঢাকার আসিয়ান ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া কতটা জোরালো সমর্থন দেয়।

প্রতিক্রিয়া

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমান বলেছেন, “এ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে।” ঢাকাস্থ মালয়েশীয় হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বাংলাদেশকে বিশ্ব-হালাল বাজারের চেইনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় কুয়ালালামপুর।” তবে ব্যবসায়ী সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল মন্তব্য করেছেন, “চুক্তি কাগজে না থেকে বাস্তবে রূপ পেলে তবেই শিল্প খাত উপকৃত হবে—এক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া জরুরি।”

More From Author

লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্বেগ বাড়াল আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

ভোট ‘চুরি’ অভিযোগে দিল্লিতে ইসির কার্যালয়ের দিকে বিরোধী এমপিদের পদযাত্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *