বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট–কর ছাড় দাবি, শিক্ষার ব্যয় কমাতে অংশীদারিত্বের মডেল প্রস্তাব

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট–কর ছাড় দাবি, শিক্ষার ব্যয় কমাতে অংশীদারিত্বের মডেল প্রস্তাব

ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি—এপিইউবি’র সভাপতি মো. সবুর খান রবিবার (১০ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর আরোপিত ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহার না করলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কমানো এবং ভর্তি সুযোগ বাড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন— বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যেকোনো নীতিমালা করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপাচার্য ও এপিইউবি প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘আবশ্যিক অংশীদারিত্ব পরামর্শ কাঠামো’ গঠন করতে হবে। একই দিনে হাইকোর্ট বেসরকারি স্কুল–কলেজের শিক্ষক বদলি নীতিমালা নিয়ে রুল জারি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন–সংকট ঘিরে সরকারি খামার দখলের ঘটনা দেখাচ্ছে— উচ্চশিক্ষা নীতিতে সমন্বয় জরুরি হয়ে উঠেছে।

মূল তথ্য

• সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি ভর্তুকি পেলেও ১১০টির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫% ভ্যাট, ১০% আয়করসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পূর্ণ হারে শুল্ক দেয়।

• চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী এই খাতে পড়াশোনা করেন; টিউশন ফি-র গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০-১২%।

• এপিইউবি বলছে: ভ্যাট-কর ছাড় দিলে টিউশন কমপক্ষে ২০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে এবং আয় কম আয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বাড়ানো যাবে।

• বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি জমি, গবেষণা অনুদান কিংবা অবকাঠামো ঋণ সুবিধা পায় না; পাশের দেশ মালয়েশিয়া, ভারত ইতিমধ্যে কর ছাড়ের মাধ্যমে বেসরকারি ক্যাম্পাসে বিনিয়োগ টেনেছে।

প্রেক্ষাপট

১৯৯২ সালে আইন পাস করে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পথচলা শুরু করে। শুরুতে কর-রেয়াত থাকলেও ২০১০-এর পর ধাপে ধাপে ভ্যাট ও আয়কর আরোপ হয়। কোভিড-উত্তর সময়ে ডলার, যন্ত্রপাতি ও আইটি সেবার খরচ বাড়ায় ক্যাম্পাস পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে ৩০% পর্যন্ত। অন্যদিকে, অভিভাবকদের আয় বাড়েনি; ফলে ভর্তি সুদূর কী, ২০২3-২৪ সেশনে ১৫% আসন খালি থেকেছে বলে এপিইউবি’র তথ্য। সবুর খান অভিযোগ করেন, ‘ইউজিসি নীতিমালা প্রায়ই আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চূড়ান্ত করে; ফলে দ্রুত বদলে যাওয়া বিষয়—এআই, ফিনটেক বা বায়োটেক প্রোগ্রামের অনুমোদন পেতে আমাদের ১২-২৪ মাস লেগে যায়।’

বিশেষজ্ঞদের মতামত

শিক্ষা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা-খরচেই যখন ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়, সেটি কার্যত শিক্ষার্থীকে শুল্ক দিতে বাধ্য করারই সামিল।’ কর আইনজীবী তামান্না হোসেন মনে করেন, নন-প্রফিট সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সাধারণ ভ্যাট আইনের আওতায় না এনে পৃথক ‘শিক্ষা কর কাঠামো’ করা উচিত। ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক সোহেল আহমেদ অবশ্য সতর্ক করে বলেন, ‘কর ছাড়ের বিনিময়ে মাননিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে হবে, না হলে খরচ কমিয়ে মানও কমে যেতে পারে।’

এরপর কী

১. এপিইউবি চলতি মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভ্যাট-কর অব্যাহতি চেয়ে ‘শ্বেতপত্র’ জমা দেবে; দাবি, ২০২৫-২৬ বাজেটের আগে নীতি ঘােষণা।

২. ইউজিসি-এপিইউবি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব পেশ করেছে; লক্ষ্য— ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রোগ্রাম অনুমোদন ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক র‌্যাংকিং চালু।

3. শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র রয়ে‌টার্সকে বলেছে, ‘সব পক্ষ নিয়ে দ্রুত একটি কর্মশালা হবে।’ তবে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘রাজস্ব ছাড়ের আগে কার্যকর অডিট-মেকানিজম দরকার।’

4. একসঙ্গে VAT-কর আলোচনার ফলাফল হাতে পাবার পর বেসরকারি খাত বৈশিক্ষ্য স্কলারশিপ তহবিল দ্বিগুণ করতে সম্মত হয়েছে বলে এপিইউবি দাবি করেছে।

More From Author

ইসির প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৬ নতুন দল, মাঠে যাচাই শেষে সেপ্টেম্বরেই নিবন্ধন চূড়ান্তের লক্ষ্য

যাত্রীর সংখ্যায় আকাশপথে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, দ্রুত বাড়ছে চীনের বাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *