বিজিআইসি পেল ‘AAA’ ক্রেডিট রেটিং, বিনিয়োগকারীরা দেখছেন আস্থার নতুন বার্তা

বিজিআইসি পেল ‘AAA’ ক্রেডিট রেটিং, বিনিয়োগকারীরা দেখছেন আস্থার নতুন বার্তা

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার-তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) লিমিটেডের সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ করেছে আরগুস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড (ACRSL)। সোমবার, ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি রেটিং ধার্য হয়েছে ‘AAA’ এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং ‘ST-1’। রেটিংটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এ শেষ হওয়া হিসাব-বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ৩০ জুন ২০২৩-এর অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পরিমাণগত তথ্য পর্যালোচনা করে।

এর গুরুত্ব কী

‘AAA’ বাংলাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ দীর্ঘমেয়াদি রেটিং। এটি ইঙ্গিত দেয়—কোম্পানির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা খুবই শক্ত এবং ঝুঁকি অত্যন্ত কম। স্বল্পমেয়াদি ক্ষেত্রে ‘ST-1’ মানে এক বছরের কম সময়ে আর্থিক বাধ্যবাধকতা পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রুপে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের চোখে এটি আস্থার বার্তা; ঋণদাতা ব্যাংক ও ফান্ড ব্যবস্থাপকরা কম সুদে অর্থায়ন বিবেচনা করতে পারেন, আর সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা দেখেন টেকসই লভ্যাংশের সম্ভাবনা।

প্রেক্ষাপট

বিজিআইসি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দেশের অন্যতম প্রাচীন বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানি। ১৯৮৯ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে বিমা খাতে মধ্যম মাপের কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ, প্রিমিয়াম আয় ও লাভাংশের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত না হলেও পূর্ববর্তী বছরগুলোতে নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত এক বছরে বিমা খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানি তুলনামূলক নিম্ন রেটিং পাওয়ায় বিজিআইসির অর্জনটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।

সংখ্যায় তথ্য

দীর্ঘমেয়াদি রেটিং: AAA

স্বল্পমেয়াদি রেটিং: ST-1

রেটিং প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ (সোমবার)

রেটিং সংস্থা: Argus Credit Rating Services Ltd (ACRSL)

মূল্যায়িত বিবরণী:

– নিরীক্ষিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত

– অনিরীক্ষিত: ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত

বিজিআইসির ইস্যু করা শেয়ার: ৫৯ কোটি ৪৮ লাখ (ডিএসই তথ্য)

লাস্ট ক্লোজিং দর: ৭৪.২০ টাকা (১০ আগস্ট, ডিএসই)

বিশ্লেষণ

অর্থনীতিবিদ ও বাজার পর্যবেক্ষক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘AAA রেটিং মানে শেয়ারটির মৌলভিত্তি শক্ত। তবে এটিই দাম বাড়ার একমাত্র শর্ত নয়; সামগ্রিক বাজার মনস্তত্ত্বও গুরুত্বপূর্ণ।’ স্টক ব্রোকার শেখ আকতারুজ্জামান জানান, বিমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট থাকলেও ভালো রেটিং পেলে ফান্ড ম্যানেজাররা সেলফি পোর্টফোলিয়োতে স্থান দিতে স্বস্তি বোধ করেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি পুনর্বীমা ব্যয় কমানোর সুবিধা পেতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক পুনর্বীমা কোম্পানিগুলো সাধারণত উচ্চ রেটিংধারী ক্লায়েন্টকে প্রিমিয়াম ছাড় দেয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ

রেটিং প্রকাশের পর বিজিআইসি যদি মূলধন বর্ধিত করতে চায়, বন্ড বা রাইট শেয়ার ইস্যুর সময় সুদ ও শর্তে সুবিধা পাবে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডিএসইকে জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ২০২৪-এর বার্ষিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ প্রস্তাব প্রকাশ করবে। বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন সেসব ঘোষণার দিকে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ (বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) আশা করছে, অন্যান্য বীমা কোম্পানি স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং নিয়ে সামনে এগোবে, যা সামগ্রিক খাতের সুশাসন বাড়াতে সহায়তা করবে।

শেষ কথা

ক্রেডিট রেটিং শুধু একটি সংখ্যাগত সূচক নয়; এটি কোম্পানির আর্থিক শৃঙ্খলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দক্ষতার সমন্বিত প্রতিচ্ছবি। বিজিআইসির ‘AAA’ অর্জন বীমা খাতের জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল, যা বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে ও বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন টানতে সহায়তা করতে পারে। তবে খাত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেকোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের আগে মৌলিক বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি বিবেচনা জরুরি।

More From Author

যুক্তরাজ্যের ‘নির্বাসন আগে, আপিল পরে’ নীতি সম্প্রসারণ: বাংলাদেশিদের জন্য কী ঘটতে পারে

নির্বাচনে ৮০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন, পুলিশের বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *