পলাতক ৪০ পুলিশ কর্মকর্তার বিপিএম–পিপিএম পদক বাতিল

পলাতক ৪০ পুলিশ কর্মকর্তার বিপিএম–পিপিএম পদক বাতিল

ঢাকা, ১০ আগস্ট—পলাতক ৪০ পুলিশ কর্মকর্তার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব তৌসিফ আহমদ স্বাক্ষরিত ৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিজ কর্মস্থল থেকে পালিয়ে থাকা ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদক হারানোদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদিত পদক দুটির সঙ্গে সংযুক্ত সব আর্থিক সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে গৃহীত অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার ‘গণঅভ্যুত্থানের’ পর এসব কর্মকর্তা পলাতক থাকায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

পটভূমি

বিপিএম ও পিপিএম দেশের শীর্ষ স্তরের পুলিশ সম্মাননা, সাধারণত কৃতিত্ব, সাহসিকতা ও সেবার জন্য প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালের জাতীয় পদক তালিকায় এই ৪০ কর্মকর্তা পুরস্কৃত হলেও একই বছরের আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনের পর তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে।

এর গুরুত্ব কী

সেবামূলক বাহিনীর সদস্যদের সম্মাননা প্রত্যাহার খুব বিরল ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা গবেষকরা বলছেন, এটি বার্তা দিচ্ছে যে রাষ্ট্রপতি পদক পেলেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি এড়ানো যাবে না। টিআইবির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান রויטার্সকে বলেন, ‘বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের দিকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে ফৌজদারি তদন্ত ছাড়া প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকবে।’

প্রতিক্রিয়া

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, “বিভাগীয় মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিপ্লব কুমার সরকারের পরিবার সমকালকে জানায়, তিনি “অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে” বিদেশে আছেন, সিদ্ধান্তকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করবেন। অপরদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর লিগ্যাল এইড অ্যান্ড রিফর্ম (এএলএআর) এক বিবৃতিতে দ্রুত বিচার ও স্বচ্ছতাপূর্ণ তদন্ত দাবি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• মোট প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তা: ৪০

• পদমর্যাদা: ৩ জন ডিআইজি/অতিরিক্ত ডিআইজি, ৭ জন পুলিশ সুপার, ১২ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাকি ১৮ জন পরিদর্শক ও নিচের পদমর্যাদা।

• প্রত্যাহারিত পদকের আর্থিক সুবিধা: মাসিক ৮০০–১,২০০ টাকা ভাতা ও এককালীন ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার।

পরবর্তী পদক্ষেপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে আর্থসুচক জানায়, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ অথবা কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সাড়া না পেলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও ইন্টারপোল রেড নোটিস জারির সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি পদক বাতিল সংক্রান্ত গেজেট ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে ভাতার অর্থ আদায় নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা

বহু বছর ধরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের কিছু অংশ এই তালিকায় রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি বাহিনীর নীতি-নৈতিকতা পুনর্গঠনের একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। তবে পলাতক কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ায় না আনা পর্যন্ত এ উদ্যোগের পূর্ণ কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে থাকবে।

More From Author

যাত্রীর সংখ্যায় আকাশপথে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, দ্রুত বাড়ছে চীনের বাজার

যমুনাপাড়ের ভরসা মাত্র একটি বাঁশের সাঁকো, ১৫ বছরেও সেতু নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *