নিবন্ধনের প্রথম ধাপ পার করল এনসিপিসহ ১৬ নতুন রাজনৈতিক দল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সহ ১৬টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক যাচাই–বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। রোববার, ১০ আগস্ট, গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ। ১৪৫টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও ঘাটতি পূরণের সুযোগ পেয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬টি দল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল শর্ত মেটাতে পেরেছে। এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাঠ তদন্ত হবে; সেখানকার প্রতিবেদন হাতে পেলে কমিশন আপত্তি গ্রহণ, শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫১। নতুন ১৬টি দল চূড়ান্ত নিবন্ধন পেলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রতীক নিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
পটভূমি
২০০৮ সালে দল নিবন্ধন প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র, এক-তৃতীয়াংশ জেলা ও অন্তত ১০০টি উপজেলা কমিটি থাকার পাশাপাশি প্রত্যেক কমিটিতে ২০০ ভোটারের সমর্থন দেখাতে হয়। এ ছাড়া আগের কোনো নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়া বা সংসদ সদস্য থাকা দলগুলোর জন্য বিকল্প শর্ত আছে। ইসি সূত্র মতে, ২২ জুন শেষ সময়ে ১৪৫টি দল ১৪৭টি আবেদন জমা দিলেও কেউই প্রথম ধাপে টিকতে পারেনি। ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দিনের মেয়াদ বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। Risingbd ও বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য বলছে, ওই সময়ের মধ্যে ৮০টি দল আংশিক তথ্য দেয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ শর্ত মানতে সক্ষম হয় মাত্র ১৬টি।
এর গুরুত্ব কী
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নজর বেশি। নিবন্ধিত দল ছাড়া নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করা যায় না, ফলে রাজনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ সার্টিফিকেট অত্যন্ত জরুরি। ইসি ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে আদালতের আদেশে পুনরায় নিবন্ধন দিলেও জাগপা–সহ কয়েকটি দল এখনো অনিশ্চয়তায়। নতুন দলগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫১ থেকে বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে, যা ভোটারদের কাছে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম বাড়াবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মাঠে প্রতীক সংকট, জোট গঠন ও প্রচারের কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে।
এরপর কী
ইসি দলগুলোর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফিল্ড ভেরিফিকেশন করতে বলবে। কমিটি বাস্তবেই আছে কি না, সমর্থনকারী ভোটারদের স্বাক্ষর সত্যতা, অফিস-ব্যবস্থাপনা ও অর্থের স্বচ্ছতা—সবই দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন আসতে এক-দুই মাস সময় লাগতে পারে। পরে ইসি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আপত্তি গ্রহণ করবে; কোনো ব্যক্তি বা দল আপত্তি তুললে শুনানি হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলকে সাফাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। আপত্তি নিষ্পত্তির পরই মিলবে চূড়ান্ত নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পারলে ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুমোদনপত্র পেয়ে যেতে পারে যোগ্য দলগুলো।

