চট্টগ্রাম উপকূলে ট্রলারডুবি: দুজনের লাশ ভেসে উঠল, নিখোঁজ এখনো ছয়
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাছ ধরার ট্রলার ‘আনিকা’ ডোবার তিন দিন পর শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাটের কাছে দুজন জেলের লাশ ভেসে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে ১৯ জনের ট্রলারে থাকা আট নিখোঁজ জেলের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলো। নিষ্ঠুর সমুদ্রে ১১ জনকে ওই দিনই জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছিল, বাকি ছয়জনের খোঁজে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর তল্লাশি চলছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন একটি অজ্ঞাত বড় জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ট্রলারটিকে ডুবিয়ে দেয়।
পটভূমি
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ফিশারিঘাট থেকে ১৯ জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে রওনা দেয় ‘আনিকা’। ঘণ্টাখানেক পর কর্ণফুলী মোহনা অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে পেছন থেকে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায়। স্থানীয় একটি ট্রলারের সাহায্যে ১১ জনকে উদ্ধার করা হলেও আটজন তলিয়ে যান। নিখোঁজদের সবাই নোয়াখালীর বাসিন্দা।
ঘটনাপ্রবাহ
শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবুল কালাম (৪০) ও মো. ইদ্রিস (৩৫) নামে দুজনের দেহ ভেসে ওঠে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায়। স্বজনেরা শার্ট ও গায়ে থাকা দাগ দেখে তাদের শনাক্ত করেন, জানিয়েছে নয়া দিগন্তকে আবুল কালামের ভাগনে মিরাজুল ইসলাম। খবর পেয়ে নৌ–পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• ট্রলারে জেলে ছিলেন: ১৯ জন
• তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার: ১১ জন
• নিখোঁজ ছিলেন: ৮ জন
• উদ্ধার হওয়া লাশ: ২ জন
• এখনো নিখোঁজ: ৬ জন
• ট্রলার ডোবার সময়: বৃহস্পতিবার, দুপুর প্রায় ১২টা
• ঘটনাস্থল: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর, বঙ্গোপসাগর
প্রতিক্রিয়া
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাকিব মেহবুব রয়টার্সকে জানান, ‘মালিক পক্ষ শুক্রবার সন্ধ্যায় খবর দিলে আমরা তল্লাশি জোর করি। নৌবাহিনীর একটি দলও যুক্ত হয়েছে।’ ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ মিরাজ আজাদীকে বলেছেন, ‘আমরা আরেকটি বড় নৌকা নিয়ে সমুদ্রে খুঁজছি। পরিবারগুলো ছেলেদের কণ্ঠ শুনতে চাইছে।’ পতেঙ্গা এলাকার স্থানীয় জেলে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দৈব ভরসা ছাড়া সমুদ্রে কাজ নেই, কিন্তু বড় জাহাজের গতি কমালে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।’
পরবর্তী পদক্ষেপ
কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী আজও ভোর থেকে কর্ণফুলী মোহনা ও পাশে সাগর এলাকায় সার্চ লাইট ও সনার ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আঘাতকারী জাহাজ শনাক্তে রাডার ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। নৌ–পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, মালিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিখোঁজ ছয় জেলের সন্ধান দেওয়া না হলে তারা বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ করবে।

