ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে সহশিল্পীর আচরণে ‘অস্বস্তি’—বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কার অভিজ্ঞতা ও বড় ছবির পেছনের প্রশ্ন

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে সহশিল্পীর আচরণে ‘অস্বস্তি’—বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কার অভিজ্ঞতা ও বড় ছবির পেছনের প্রশ্ন

মুম্বাইয়ে সম্প্রতি ইউটিউব সঞ্চালক সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক আলাপে বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা জানান, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় দুই সহ–অভিনেতার আচরণ তাঁকে ‘চরম অস্বস্তিতে’ ফেলেছিল। ‘পদ্মাবত’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ও ‘ওয়ার’–এর এই তারকা বলেন, একটি চুম্বনের দৃশ্যের সময় সহঅভিনেতা অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন; আরেকবার খোলামেলা পোশাকের সুবিধা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন। দু’বারই তিনি হাত সরিয়ে ইঙ্গিতে থামানোর চেষ্টা করেন এবং পরের টেকে সীমানা মেনে চলার অনুরোধ জানান। তাঁর মন্তব্য নতুন করে ইন্ডাস্ট্রিতে সম্মতি (consent) ও ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করেছে।

প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালে হলিউডের ‘#মিটু’ আন্দোলনের পর বলিউডেও নারীদের কাজের জায়গায় নিরাপত্তা ও সম্মতি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। বেশ কয়েকজন পরিচিত নারী শিল্পী কাস্টিং কাউচ বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়ে মুখ খুললেও অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি চুপিচুপি থেকে যায়। অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা প্রথম সারির নায়িকা না হলেও বহুল আলোচিত প্রজেক্টে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য মূলধারার মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় ইন্ডাস্ট্রির ‘নিউ নর্মাল’—ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ব্যবহার, স্পষ্ট চুক্তিপত্রে সম্মতির সীমা উল্লেখ—নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া

অনুপ্রিয়ার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর অভিনেত্রী সায়ন সুদ ও পরিচালক অলংকৃতা শ্রীবাস্তব টুইট করে জানান, ‘নীরবতা ভাঙা গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘প্রতিটি সেটে প্রশিক্ষিত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত’। মুম্বাইয়ের সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (CINTAA) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে কেউ অস্বস্তি বোধ করলে সেট বন্ধ করে বিষয়টি সমাধান করার নির্দেশনা তারা আগেই দিয়েছে; নতুন করে তা মেম্বারদের মেইল করা হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক ‘রয়টার্স’-কে বলেন, “জোড়া শিডিউল ও খরচের চাপে অনেক ইউনিটই অতিরিক্ত স্টাফ রাখতে চায় না।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

মুম্বাইয়ের মনোবিজ্ঞানী ও ইন্টিমেসি কনসালট্যান্ট অঙ্কিতা ধোনদি মনে করেন, “ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া একেবারে অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেটি যদি দৃশ্যের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যায় তবে তা হয় হয়রানি।” তাঁর পরামর্শ, প্রতিটি প্রজেক্টে আগে থেকেই ‘চুম্বন থেকে কতদূর পর্যন্ত’ স্বাক্ষরিত গাইডলাইন থাকা দরকার। চলচ্চিত্র গবেষক সৌমিক ঘোষের ভাষ্য, “বলিউডে ‘অভিনয়ের নামে সবকিছু চলে’—এই দৃষ্টিভঙ্গিই মূল সমস্যা। দর্শকও যতক্ষণ কনটেন্ট পাচ্ছে, ক্যামেরার পেছনের সম্মতি নিয়ে ভাবেন না।”

এরপর কী

সেটের নিরাপত্তা বিধির বিষয়টি ভারতে এখনো আইনি বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে আসেনি, তবে ২০২১ সালে প্রযোজক সংগঠনের খসড়া নীতিমালায় ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর রাখার সুপারিশ রয়েছে। এদিকে অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা বর্তমানে ওটিটি সিরিজ ‘আমরাবতি ফাইলস’-এর শুটিং করছেন। টিম সূত্র ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে জানায়, এবার থেকে তাঁরা চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে ‘নো আন্কনসেন্টেড টাচ’ ক্লজ যুক্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বেড়ে যাওয়ায় শিল্পীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি শিগগিরই আইন ও চুক্তির অংশ হবে—কেবল তারকারা নয়, নবাগতরাও যাতে নির্ভয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেন।

More From Author

সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে ঝিনাইদহে কালোকাপড়পরা মৌন মিছিল

চট্টগ্রাম লায়ন্স ক্লাব ক্লাসিকে নেতৃত্ব বদল ও জেলা গভর্নর টিমকে সংবর্ধনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *