কুরিল দ্বীপপুঞ্জে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ দিনের মধ্যে রাশিয়ায় দ্বিতীয় ঝাঁকুনি
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কুরিল দ্বীপপুঞ্জে শনিবার ভোরে রিখটার স্কেলে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (EMSC) জানায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে কেন্দ্র হওয়ায় কাঁপুনি তীব্র ছিল, যদিও তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামি সতর্কতা জারি করতে হয়নি। ঠিক ১০ দিন আগে, ৩০ জুলাই, একই অঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপে ৮.৭ মাত্রার ধ্বংসাত্মক কম্পন হয়েছিল, যা ১৯০০ সালের পর বিশ্বের অন্যতম বড় ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিক এই কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
প্রেক্ষাপট
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূমিকম্প প্রবণ বেল্টের ওপরেই কুরিল ও কামচাটকা। অঞ্চলটিতে প্রায়ই মাঝারি ও বড় মাত্রার কম্পন হয়। ৩০ জুলাইয়ের ৮.৭ মাত্রার কম্পনের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ১৪টি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করতে হয়েছিল এবং কামচাটকার উপকূলে প্রায় চার মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। সে কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ৬ মাত্রার আরেকটি ঝাঁকুনি স্থানীয়দের মনে তাজা করে দিয়েছে বড় ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• মাত্রা: ৬.০ (EMSC)
• গভীরতা: ১০ কিলোমিটার
• অবস্থান: কুরিল দ্বীপপুঞ্জ, রাশিয়া (জাপান সীমান্ত থেকে প্রায় ১,৪০০ কিমি উত্তর-পূর্বে)
• আগের বড় কম্পন: ৩০ জুলাই, ৮.৭ মাত্রা
• বিশ্বে রেকর্ডকৃত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৮.৭ এবার অঘোষিত ষষ্ঠ অবস্থানে (USGS)
প্রতিক্রিয়া
রয়টার্সকে রুশ জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, “এখন পর্যন্ত কোনও অবকাঠামো ক্ষতি বা ব্যক্তিগত হতাহতের খবর পাইনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টহল চলছে।” কুরিলের কয়েকটি দ্বীপে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। তা সত্ত্বেও স্কুল, হাসপাতাল ও ছোট ছোট মাছ ধরার ঘাটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ–তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজিদুল ইসলাম বলেন, "অল্প গভীরতার কম্পন সাধারণত বেশি দোলন সৃষ্টি করে, তাই ৬ মাত্রা হলেও ক্ষতির শঙ্কা কম নয়। ৮.৭ মাত্রার পরে ভূত্বকের সমন্বয় পুরোপুরি হয়নি বলেই পুনরায় চাপ ছড়াচ্ছে।" ইউএসজিএসের তথ্য বিশ্লেষক ক্যাথলিন কার্বেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, "এই ধরনের ধারাবাহিক কম্পনকে ‘সিকুয়েন্স’ বলা হয়; আরও আফটারশক আসতে পারে, তবে বেশির ভাগই ছোট হবে।"
এরপর কী
রুশ কর্তৃপক্ষ দ্বীপগুলোর পুরোনো ভবন, বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করেছে। জরুরি মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদেরকে ভূমিকম্প প্রস্তুতি ব্যাগ তৈরি, বাড়ির ভারী আসবাব আটকে রাখা এবং মোবাইল ফোন চার্জ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্ক কেন্দ্র পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অঞ্চলটি ‘উচ্চ নজরদারিতে’ রাখবে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ভবিষ্যতে বড় কম্পন ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে আগাম সতর্কতা ও টেকসই অবকাঠামোই ঝুঁকি কমাতে পারে।

