একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: আবেদন সময় ১৫ আগস্ট পর্যন্ত, শিক্ষা কোটার নির্দেশনা জারি
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন চলমান। প্রথম ধাপের শেষ তারিখ ছিল ১১ আগস্ট রাত ৮টা; রবিবার রাতে কেন্দ্রীয় ভর্তি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, সময়সীমা চার দিন বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সরকারি স্কুল–কলেজ ও শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য ‘ইকিউ কোটা–২’ সুবিধা বাস্তবায়নে আলাদা নির্দেশনা পাঠিয়েছে। ফলে ছুটি কিংবা কারিগরি জটিলতায় আবেদন করতে না-পারা শিক্ষার্থীদের বাড়তি সময়, আর শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কোটা নিশ্চিত হল।
ঘটনাপ্রবাহ
৩০ জুলাই অনলাইনে আবেদন খুলে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসা বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১১ আগস্ট ছিল প্রথম ধাপের শেষ সময়। রবিবার (১০ আগস্ট) রাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে নতুন নোটিশ ঝোলানো হয়—আবেদন ১৫ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ছুটির মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ফি দিতে না-পারায় ও সাইটে চাপ বেড়েছিল।
পটভূমি
২০১৫ সাল থেকে একাদশ শ্রেণির ভর্তি পুরোপুরি অনলাইনে হয়। ছয়টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—মোট নয়টি বোর্ডের ফল এক প্ল্যাটফরমেই যাচাই হয়। তিন ধাপে নির্বাচিত তালিকা প্রকাশ, এসএমএসের মাধ্যমে নিশ্চয়তা ও পরে কলেজে সরাসরি ভর্তি—এটাই প্রচলিত পদ্ধতি। প্রথম ধাপে না-পেলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আবেদন সংশোধনের সুযোগও থাকে। ভর্তি ফি অনলাইনে বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• আসন মোট: প্রায় ২৬ লাখ (সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে)।
• গত শিক্ষাবর্ষে আবেদন: ১৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি।
• আবেদন ফি: ১৫০ টাকা (প্রথম ধাপ), পরে প্রতি পরিবর্তনে ১৫০ টাকা।
• মেধা তালিকা প্রকাশ: ১৮ আগস্ট (শুক্রবার রাত ৮টা)।
• নিশ্চয়তা ফি: ২০০ টাকা, ২৬ আগস্টের মধ্যে দিতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
১৫ আগস্ট আবেদন শেষ হওয়ার পর ১৮ আগস্ট প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করবে আন্তশিক্ষা বোর্ড। তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ২৬ আগস্টের মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে আসন নিশ্চয়তা দিতে হবে, নইলে তাদের আবেদন বাতিল হবে। ২৭–২৮ আগস্ট দ্বিতীয় ধাপের আবেদন, ৩০ আগস্ট দ্বিতীয় তালিকা, ৩–৪ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপ—এই ধারায় ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে সরাসরি ভর্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য আছে। ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১ অক্টোবর।
প্রতিক্রিয়া
সময় বাড়ানোয় স্বস্তি পেয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দিনাজপুরের এসএসসি পাস জয়া আক্তার বলেন, “রবিবার বিকেলে সাইটে ঢুকতেই পারিনি, নতুন সময় না-পেলে মিস হয়ে যেত।” সরকারি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান মত দেন, “কোটা নির্দেশনা পরিষ্কার হওয়ায় আমাদের সহকর্মীদের সন্তানেরা সহজে আবেদন করতে পারবে।” তবে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান সতর্ক করেন, “ঘন ঘন সময় বাড়ানো হলে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা তৈরি হয়, সিস্টেমটা আগেই স্থিতিশীল করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
নীতিমালা-বিষয়ক গবেষক ড. শামসুল আলম মনে করেন, অনলাইন কেন্দ্রীকরণ স্বচ্ছতা বাড়ালেও জেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট অবকাঠামো ও ডিজিটাল পেমেন্ট সচেতনতা বাড়াতে হবে, নইলে প্রতিবছরই সময় বাড়াতে হবে। শিক্ষা অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রিটা দাশ বলেন, শুধুমাত্র ১৫০ টাকার ফি নয়, কলেজভর্তি ও কোচিং খরচ মিলিয়ে পরিবারের উপরে চাপ তৈরি হচ্ছে—প্রসেস ডিজাইন করার সময় এই বিষয়গুলোও ভাবা দরকার।

