লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্বেগ বাড়াল আইনশৃঙ্খলা নিয়ে
রোববার ভোররাত ১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পালেরহাট এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে একনলা বন্দুকসহ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম ফরিদ উদ্দিন (৪২) গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান। ফরিদকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সরকার হারানো ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ উদ্যোগের কথা বলছে।
ঘটনাপ্রবাহ
সেনা টহল দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পালেরহাট বাজারসংলগ্ন ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি ঘিরে ফেলে। তল্লাশিতে একটি একনলা বন্দুক ও কয়েক রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। রাত ১টা ২৫ মিনিটে তাকে আটক করা হয় এবং সাড়ে ৩টার মধ্যে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ অস্ত্রের বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি।
প্রেক্ষাপট
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সচেতনতা বাড়াতে সরকার সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত সপ্তাহের ব্রিফিংয়ে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো প্রায় ৭০০ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ পুরস্কার প্রকল্প চালু থাকবে। ফরিদের বাড়ি থেকে বন্দুক উদ্ধার সেই উদ্যোগের মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে রাজনৈতিক কর্মীর ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধার বিক্ষিপ্ত সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ায়।
প্রতিক্রিয়া
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন রাইজিংবিডিকে বলেন, "ফরিদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেব।" স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এটিকে "আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত অভিযান" বলে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বাসিন্দা দ্রুত বিচার দাবি করলেও কয়েকজন রাজনৈতিক হয়রানির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্ত্র চোরাচালান পর্যবেক্ষক অধ্যাপক শফিউল আজম মনে করেন, "এখন থেকেই অবৈধ অস্ত্র পরিচ্ছন্ন না করলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বাড়তে পারে।" নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল হক রויטার্সকে বলেন, "একটি একনলা বন্দুক বড় হামলা চালাতে সক্ষম না হলেও এটি স্থানীয় ভীতি সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট; তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই অস্ত্র এল কোথা থেকে?"
বৃহত্তর চিত্র
একই জেলায় মেঘনা তীররক্ষা বাঁধ দেবে যাওয়ায় হাজারো বাসিন্দা ভাঙন আতঙ্কে আছেন। নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত লোকজনের বেশির ভাগই পুরুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই কাজ হারিয়ে অপরাধমূলক পথে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে—জানিয়েছে স্থানীয় এনজিও ‘উদ্ভাস’। ফলে অবৈধ অস্ত্র ও সামাজিক অস্থিরতা একে অপরকে জ্বালানি যোগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সদর থানা পুলিশ জানায়, ফরিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে রিমান্ড চাওয়া হবে। পাশাপাশি তার অস্ত্র জোগানের নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখবে সিআইডি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশ দুই সপ্তাহের মধ্যে সব লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র শনাক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালাবে। প্রশাসন বলছে, অবৈধ অস্ত্র জমা দিলে শাস্তি লঘু করার সুবিধা দেওয়া হবে, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

