যাত্রীর সংখ্যায় আকাশপথে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, দ্রুত বাড়ছে চীনের বাজার
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এয়ার ট্রান্সপোর্ট স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪’ অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী আকাশপথে ভ্রমণ করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন পরিবহন করেছে ৭৪ কোটি ১০ লাখ যাত্রী—যেখানে প্রবৃদ্ধি ১৮.৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের মোটে ৫.২ শতাংশ। তালিকার পরের অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ভারত। তথ্যভিত্তিক এই প্রতিবেদন রোববার সিএনএন ও আইএটিএ সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
কোভিড-১৯–পরবর্তী পুনরুদ্ধারের মুখে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ বাজার দুই বছরের টানা ধস কাটিয়ে ২০২३ সালেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০২৪ সালে যাত্রীসংখ্যা প্রায় মহামারি-পূর্ব ২০১৯ সালের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়। আইএটিএর প্রতিবেদনটি ২৯০টির বেশি এয়ারলাইনের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি হয়, যা নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সূচক হিসেবে বিবেচিত।
এর গুরুত্ব কী
যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও প্রবৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে চীন, যা ভবিষ্যতে বাজার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। এয়ারলাইন্স পরিকল্পনা, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা ঠিক করতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই উড়োজাহাজ শিল্প গড়ার আলোচনাতে যাত্রীসংখ্যা ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
মূল তথ্য
• যুক্তরাষ্ট্র: ৮৭ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী (প্রবৃদ্ধি ৫.২%) – এর ৮১% অভ্যন্তরীণ রুট।
• চীন: ৭৪ কোটি ১০ লাখ (১৮.৭%) – ঘরোয়া রুটে জোরদার উত্থান।
• যুক্তরাজ্য: ২৬ কোটি ১০ লাখ (৭.৩%) – ট্রান্স-অ্যাটল্যান্টিক ও ইউরোপীয় ছুটির গন্তব্যে চাহিদা বেশি।
• স্পেন: ২৪ কোটি ১০ লাখ (১০.৭%) – পর্যটনপ্রধান অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
• ভারত: ২১ কোটি ১০ লাখ (১১.১%) – মধ্যবিত্তের আয় বাড়া ও কম খরচের উড়োজাহাজ সার্ভিস বিস্তৃত।
বিশ্লেষণ
চীনের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ঝুঁকি কম, ভিসাহীন ভ্রমণের প্রয়োজন নেই—এ কারণেই গ্রোথ বেশি বলছেন বিশ্লেষকেরা। দেশটির সরকার ২০০টির বেশি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে মোট যাত্রীর ৮৫ ভাগই আগে থেকেই স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, ফলে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর। ইউরোপে ছুটির মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাজ্য ও স্পেন এগোচ্ছে, তবে পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি বৈচিত্র্যহীনতা নিয়ে সমালোচিত। ভারতের ক্ষেত্রে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় ও ৫৭টি আঞ্চলিক বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা বাজারটিকে দ্রুত বড় করতে সাহায্য করছে।
এরপর কী
আইএটিএ পূর্বাভাস দিচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক যাত্রীর সংখ্যা ১,০০০ কোটি ছুঁবে। এতে জ্বালানি দক্ষ উড়োজাহাজ, টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) ও কার্বন অফসেট প্রকল্পে বিনিয়োগ অনিবার্য হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়া—বিশেষ করে বাংলাদেশ—আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ও টুরিজম হাব হতে চাইলে এখনই অবকাঠামো ও মানবসম্পদে জোর দেওয়া জরুরি।

