বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ১০ দিনের ভর্তি মেলা শুরু, কোর্স ফিতে সর্বোচ্চ ১০০% ছাড়

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ১০ দিনের ভর্তি মেলা শুরু, কোর্স ফিতে সর্বোচ্চ ১০০% ছাড়

মোহাম্মদপুরের আদাবরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি রোববার (১০ আগস্ট) থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের ভর্তি মেলা চালু করেছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বিভাগ–সূত্রে তথ্য, ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন। উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান, মেলা চলাকালে এসএসসি-এইচএসসি ফলাফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীরা কোর্স ফিতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ ছাড় এবং অতিরিক্ত ৫–১০ হাজার টাকা মওকুফের সুবিধা পাবেন। প্রথম আলো জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদ ও বিভাগের প্রধানরা উদ্বোধনে ছিলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্চশিক্ষা নিয়ে দোটানায় থাকা অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা হবে।

পটভূমি

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর রাজধানীসহ সারা দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রচার ত্বরান্বিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রতি সেমিস্টারে একটি করে ‘ভর্তি মেলা’ আয়োজন করে থাকে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে এবারই প্রথম তারা পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে বড় পরিসরে এই ইভেন্ট করছে, জানিয়েছে প্রভোস্ট অফিস।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• মেলার সময় : ১০-১৯ আগস্ট, রোজ সা. ১০ টা- বিকেল ৪ টা

• ছাড় : কোর্স ফি-তে ১৫-১০০ % (শিক্ষাবৃত্তি)

• অতিরিক্ত ছাড় : ৫–১০ হাজার টাকা

• শনাক্তযোগ্য বিভাগ : সিএসই, ফার্মেসি, ব্যবসা প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান, আইন, গণিতসহ ১৫+ বিভাগ

• শিক্ষক–কর্মকর্তা উপস্থিতি : ৫০ জনের বেশি (বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব)

প্রতিক্রিয়া

সিএসই বিভাগের প্রধান মো. সাদিক ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, “যাত্রা শুরু থেকেই আমরা হাতে-কলমে ল্যাব ফোকাসড শিক্ষা দিচ্ছি। মেলায় এসে শিক্ষার্থীরা সেটা চোখে দেখছেন।” মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া এসএসসি পাস শিক্ষার্থী তাসনুভা তানিয়া বলেন, “বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বুঝতে পেরেছি কোন সাবজেক্টে স্কলারশিপ বেশি পাব।” উদ্যোক্তারা জানান, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের পাশাপাশি ক্যারিয়ার কাউন্সেলরও রাখা হয়েছে, যাতে অভিভাবকরাও প্রশ্ন করতে পারেন।

এরপর কী

মেলা শেষে ২০ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে। ৩১ আগস্টের মধ্যে ফল সেমিস্টারের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকা প্রকাশ করবে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, যাঁরা মেলা চলাকালে আবেদন করবেন না, তাঁরাও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একই ধরনের ছাড় চাইতে পারবেন; তবে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে।

বিশ্লেষণ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)–এর সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফাঁকা আসন বাড়ছে, কারণ বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রবণতা এবং দক্ষতা-কেন্দ্রিক কোর্সের চাহিদা পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ‘মেলা’কে ব্র্যান্ডিং ও অভিভাবক—শিক্ষার্থী আস্থা ফেরানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। শিক্ষা বিশ্লেষক ড. কাজী রোকসানা আলী মনে করেন, “ওয়ান-স্টপ ইনফরমেশন সেন্টার” ধারণা শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ দ্রুত করতে সাহায্য করে, কিন্তু কারিকুলামের মান ও শিক্ষকতা-পদ্ধতির উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার চাবিকাঠি।

More From Author

মুন্সীগঞ্জে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ‘লিটন কসাই’ গ্রেফতার, ইয়াবা চক্রে ভাঙন

গাইবান্ধায় বাবাকে ‘বিষপান করিয়ে’ হত্যা, মূল আসামিরা অধরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *