বরগুনায় ছোট ইলিশ কেজি ৫০০ টাকা, বাজারে ক্রেতা-উচ্ছ্বাস
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেল থেকে বরগুনা পৌর শহরের মাছবাজারে মাইকিং করে ৫০০ টাকায় কেজি দরে ছোট ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও মহিপুর থেকে আনা এই মাছ রাতভর বিক্রি হবে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। আগের সপ্তাহেই একই মাপের ইলিশের দাম ছিল ১,০০০-১,২০০ টাকা। হঠাৎ মূল্যপতন এবং মাইকিংয়ের কারণে বাজারে ভিড় করেছেন শত শত ক্রেতা। জেলা মৎস্য দপ্তর বলছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় গত দু’দিনে সমুদ্রে ট্রলার বাড়ায় সরবরাহও বেড়েছে।
মূল তথ্য
পৌর শহরের প্রধান মাছঘাটে সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় ১৫টি অস্থায়ী দোকান ৫০০ টাকার ফ্ল্যাট দরে ৪০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছে। কুয়াকাটার মহিপুর, আলীপুর ও চরমোনাই ঘাট থেকে ট্রলারভর্তি মাছ সরাসরি ভোরে বরগুনায় এসে নামে। মাছ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাইকিং চলবে বলে ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া
মেহেদী হাসান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘সাত-আট মাস পর প্রথম ইলিশ কিনলাম, একবারেই ৩ কেজি নিয়েছি।’ আরেক ক্রেতা মতিয়ার রহমানের মন্তব্য, ‘এ বছর ইলিশ সব সময় হাতের বাইরে ছিল, আজ সাহস করে বাজারে এসেছি।’ বিক্রেতাদের ভাষায়, কম দামে দেওয়ায় দিনে বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে।
পটভূমি
মে মাস থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ায় জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারেননি, যার ফলেই জুলাইয়ের শেষ ভাগে ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ১,২০০ টাকায় ওঠে। গত সপ্তাহে আবহাওয়া সহজ হওয়ায় একযোগে শতাধিক ট্রলার গভীর সাগরে চলে গেছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম পড়ে গেছে অর্ধেকে।
সংখ্যায় তথ্য
• বর্তমান দাম: ৪০০-৬০০ গ্রাম ইলিশ ৫০০ টাকা/কেজি
• আগের সপ্তাহ: একই ওজন ১,০০০-১,২০০ টাকা/কেজি
• বরগুনা ঘাটে আজ উঠেছে প্রায় ১৫-২০ টন ইলিশ (মৎস্য অফিস সূত্র)।
• গত বছর একই সময় জাটকা-সহ ৮ টন উঠেছিল।
ভোক্তাদের উপর প্রভাব
ঢাকাসহ বড় শহরের খুচরা বাজারে এখনও ছোট ইলিশের কেজি ১,৪৫০-১,৬০০ টাকা। বরগুনার এই মূল্যপতন স্থায়ী হলে রাজধানীর বাজারেও দামের চাপ কমবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা। ঈদ-উল-আজহায় গরুর মাংসের পর ইলিশ ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল আইটেম; নতুন দামের খবরে নিম্ন ও মধ্য-আয়ের মানুষের সন্ধ্যা বাজারে উদ্দীপনা ফিরে এসেছে।
এরপর কী
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহসিন জানান, টানা ১০-১২ দিন ভাল আবহাওয়া থাকলে ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশও দ্রুত আসবে। পাশাপাশি কোস্টগার্ডের অভিযানে মুন্সীগঞ্জে ৬ কোটি মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস হওয়ায় জাটকা সংরক্ষণে সহায়তা পাবে—দীর্ঘমেয়াদে যা সরবরাহ ও দামে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে পূজার মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গে চাহিদা বাড়লে আবারও দামে উথাল-পাথাল হতে পারে।

