নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণার জন্য ঘর তুলবে বিসিবি, বোর্ড সভায় ঘোষণা

নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণার জন্য ঘর তুলবে বিসিবি, বোর্ড সভায় ঘোষণা

শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার নিজ বাড়ি নির্মাণের সব খরচ বহন করবে বিসিবি। রাঙামাটির বেত-তাঁতের বেড়ার ওই কাঁচা বাড়ি ভেঙে পাকা ঘর তুলতে প্রয়োজনীয় অর্থ দেবেন নাজমুল হাসান পরিচালিত বোর্ড। সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান তিন পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ইফতিখার রহমান মিঠু ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।
দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন ও এ বছর এশিয়া কাপের টিকিট নিশ্চিত করা দলের নায়ক ঋতুপর্ণা জমি পেলেও অর্থের অভাবে বাড়ি গড়তে পারছিলেন না। তারই দায়িত্ব এবার নিয়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসন।

পটভূমি

রাঙামাটির নানিয়ারচরের পাহাড়ি গ্রামে বেড়ে ওঠা ঋতুপর্ণা চাকমা ২০২4 সালের সাফ ফাইনালে বিজয়ী গোল করেন এবং মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়া কাপের যোগ্যতা মঞ্চেও জোড়া গোল করেন। বাবা না-থাকা পরিবারে তার আয়েই চলে সংসার; অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা সামলাতেও লড়াই করতে হয়। সাফ জয়ের পুরস্কার হিসেবে জেলা প্রশাসন তাকে বাড়ি করার জমি দিলেও নির্মাণ ব্যয়ের জন্য কোনও সহায়ক হাত মেলেনি—এ পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার কাঁচা বাড়ির ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি হয়।

এর গুরুত্ব কী

খেলাধুলার দুই ভিন্ন ফেডারেশনের এ আন্তঃইতিহ্যগত সহায়তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। ক্রিকেট থেকে আয় করা অর্থ অন্য খেলায় বিনিয়োগের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, নারী ও পাহাড়ি অ্যাথলেটদের প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি সমাজে ‘এক খেলার অর্থ অন্য খেলায়’ নীতিকে জনপ্রিয় করতে পারে, যা অবকাঠামো এবং খেলোয়াড় কল্যাণ দুটোই ত্বরান্বিত করবে।

প্রতিক্রিয়া

রোববার ফোনে ঢাকা টাইমসকে ঋতুপর্ণা বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ; নিজের একটা পাকা ঘরের স্বপ্ন ছিল। ক্রিকেট বোর্ড পাশে দাঁড়ানোয় সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হবে।” সাবেক জাতীয় অধিনায়ক সাবিনা খাতুন টুইটে লিখেছেন, “মহৎ উদ্যোগ—সবার সম্মিলিত চেষ্টাতেই নারী ফুটবল এগোবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ক্রিকেট ভক্তও বিসিবির প্রশংসা করেছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব দ্রুত প্রকৌশল দল রাঙামাটিতে গিয়ে নকশা ও খরচের হিসাব চূড়ান্ত করবে। নির্মাণকাজ চলার সময় ঋতুপর্ণাকে ভাড়া বাসায় থাকতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বোর্ডের কল্যাণ তহবিল থেকে পুরো অর্থ ছাড়ের অনুমোদন পড়ে গেছে; বাধা শুধু টেন্ডার ও স্থানীয় কন্ট্রাক্টর নিয়োগ। লক্ষ্য—আগামী সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের আগেই নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া।

বৃহত্তর চিত্র

দেশে পেশাদার নারী ফুটবল লিগ নেই, স্পন্সরও স্বল্প। ফলে আন্তর্জাতিক সাফল্য সত্বেও খেলোয়াড়দের আয়-সুরক্ষা দুর্বল। এর বিপরীতে বিসিবির সেন্ট্রাল চুক্তিতে পুরুষ ক্রিকেটাররা বছরে গড়ে লাখো টাকা পারিশ্রমিক পান। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাজেটের সামান্য অংশ অন্য খেলায় ব্যয় করলে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে ভারসাম্য ফিরবে। বিসিবির সিদ্ধান্তটি সেই আলোচনাকে এগিয়ে নিল।

More From Author

পুতিনের হাত থেকে ট্রাম্পের দূতের কাছে ‘অর্ডার অব লেনিন’, আলোচনার আগেই আলোড়ন

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টে তিন পদে সরকারি নিয়োগ, আবেদন ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *