দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল, চলতি বছর প্রাণ গেছে ৯৮ জনের
শুক্রবারের পর শনিবার (৯ আগস্ট) আরও তিন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু নিবন্ধ করেছে জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে আগস্টের প্রথম নয় দিনেই প্রাণহানি দাঁড়াল ১৫ জনে এবং পুরো বছরের হিসাব ৯৮ জনে। একই দিনে নতুন করে ৩২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ২০২৪ সালে ভর্তির মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৩ হাজার ৭৩৫–এ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হলেও সংক্রমণে শীর্ষে আছে বরিশাল বিভাগ।
প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু বাংলাদেশের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৩ সালে যেখানে ডেঙ্গুতে ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, চলতি বছর মৌসুম শুরুর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই শতের ঘরে পৌঁছে গেছে প্রাণহানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসম বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজনন বাড়ার মূল কারণ।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• মে মাস থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু: ৯৮ জন
• শুধু জুলাই: ৪১ জন মৃত্যু, ১০,৬৮৪ জন আক্রান্ত
• আগস্ট (১–৯): ১৫ জন মৃত্যু, ২,৭৫৫ জন আক্রান্ত
• বছরজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি: ২৩,৭৩৫ জন
• বর্তমানে শয্যায়: ১,৩৩৩ জন রোগী
• অঞ্চলের বিচারে মৃত্যু – ঢাকা দক্ষিণ ৪৩, বরিশাল ১৮, চট্টগ্রাম ১৬, ঢাকা উত্তর ১১, খুলনা ও রাজশাহী ৪ করে
প্রতিক্রিয়া
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. নাজমুস সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, "সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে মৃত্যুহার অনেক কমানো যায়। দেরিতে হাসপাতালে আসা, সঠিক পরীক্ষা না করা ও সঠিক তরল ব্যবস্থাপনার অভাবই মৃত্যুর প্রধান কারণ।" ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে অতিরিক্ত ২০০ কর্মী যোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা risingbd-কে বলেন, "জনসচেতনতা ছাড়া শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস দমন সম্ভব না।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকরা হাসপাতালে প্লাজমা সংকট ও শয্যার অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরছেন।
এর গুরুত্ব কী
ডেঙ্গু এখন কেবল ঢাকার সমস্যা নয়; বরিশাল, চট্টগ্রাম ও গ্রামীণ এলাকায়ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বেশি আক্রান্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে, কারণ অসুস্থতায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। আরও বড় উদ্বেগ হলো—আক্রান্তদের ৬০ শতাংশই ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী, যাদের অনেকে বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন, ফলে মারাত্মক ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে এবং রক্ত ও প্লাজমা সরবরাহে সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ আগামী সপ্তাহ থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির ছাদ, টবে জমে থাকা পানি ও ফ্রিজের ট্রে সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা, জ্বর হওয়া মাত্রই ডেঙ্গু টেস্ট করা এবং যথেষ্ট তরল গ্রহণ করা।

