ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বাড়তে পারে, হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র শনিবার সকালে জানিয়েছে, আজ ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকবে এবং কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা ১–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ভাপসা গরম বাড়াবে। সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ। দখিনা ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০–১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অফিসের বিস্তৃত বুলেটিনে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে।
প্রেক্ষাপট
এখন বর্ষা মৌসুমের শেষভাগ। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টি হলেও ভাদ্রের ভাপসা গরম কমেনি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের ওপর মৌসুমি লঘুচাপটি সুস্পষ্ট না হওয়ায় একদিকে আর্দ্রতা বেড়েছে, অন্যদিকে বৃষ্টি ছিটেফোঁটা হয়ে পড়ছে। ফলে মেঘে ঢাকা আকাশ রোদ আটকে রাখলেও বাতাসে ঘাম ঝরানো গরম অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে খুলনা ও বরিশালের কয়েকটি স্থানে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় সেখানকার নদীনালা কিছুটা ফুলে উঠেছে। ঢাকা শহরে দীর্ঘদিন বড় ধরনের বৃষ্টি না থাকায় ধুলাবালি উড়ছে, যা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ সমকালকে বলেন, "দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ দুর্বল থাকায় বৃষ্টি হবে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু আদ্রতা বেশি থাকায় গরম বেশি লাগবে।" স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তানজিনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, "উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপদাহে পানিশূন্যতা দ্রুত দেখা দিতে পারে। দিনে অন্তত তিন লিটার পানি ও লবণ-চিনি মিশ্রিত স্যালাইন পান করা উচিত।" তিনি ভোরে বা সন্ধ্যার পর বাইরে বের হয়ে হালকা হাঁটার পরামর্শ দেন, কারণ ওই সময়ে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং বায়ুদূষণও স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে থাকে।
এরপর কী
আবহাওয়া অফিসের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার রাত পর্যন্ত ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে। এরপর রোববার থেকে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে, ফলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। নাগরিকদের ছাতা বা রেইনকোট সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ হালকা বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হতে পারে। গাড়িচালক ও পথচারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে, অনেক এলাকায় বৃষ্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় ফোঁটা-ফোঁটা জলজট দেখা দেয়। নগর প্রশাসন মোবাইল পাম্প প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞেরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে জলাধার ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন।

