টাঙ্গাইলে পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে দুর্গন্ধ, ফসল নষ্ট– বিপাকে শতাধিক পরিবার

টাঙ্গাইলে পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে দুর্গন্ধ, ফসল নষ্ট– বিপাকে শতাধিক পরিবার

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চকচকিয়া শ্রীপুর গ্রামে জাকিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বড় পোল্ট্রি খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া মুরগির বিষ্ঠা ও তীব্র দুর্গন্ধে এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার ও কয়েক একর ফসলি জমি ক্ষতির মুখে। রোববার, ১০ আগস্ট সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘নয়া দিগন্ত’-কে জানান, প্রায় পাঁচ–ছয় বছর আগে গড়া খামারটি দিনের পর দিন অপচনশীল বর্জ্য ফেলে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, শিশু–বয়স্ক সবার শ্বাসকষ্ট বাড়াচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের অ知ら, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনি জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মূল তথ্য

খামার মালিক জাহিদ হাসান তিন একর জমির ওপর ১০টির বেশি শেড গড়ে বছরে কয়েক লাখ মুরগি মোটা করেন। প্রতিদিন প্রায় দেড় টন মুরগির বিষ্ঠা খোলা আকাশে ফেলায় ৩০০ মিটারের মধ্যে মাছ, সবজি ও ধানের খেত সাদা আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে; গন্ধে বাড়ির দরজা–জানালা বন্ধ রাখতে হয়। নজরুল ইসলাম, আবদুস ছামাদসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, বিষ্ঠার অ্যামোনিয়ায় ধানের পাতা পুড়ে যায়, শাকসবজির রঙ বিবর্ণ হয়; গত মৌসুমে গড়ে কেবল ৩০–৩৫ মণ ধান পেয়েছেন, যা আগে ৫০ মণ পর্যন্ত উঠত।

প্রেক্ষাপট

খামার চালুর আগে মালিকপক্ষ স্থানীয়দের ‘বিস্কুট কারখানা’ হবে বলে আশ্বস্ত করেছিল বলে দাবি করেন বাসিন্দারা। পরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অনুমোদন ছাড়াই পোল্ট্রি গড়ে তোলেন। পরিবেশ সংকটমুক্ত এলাকাবিষয়ক (ইটিই) বিধিমালা অনুযায়ী ঘনবসতি ও কৃষিজমির পাশে এই ধরনের খামার স্থাপন করতে হলে দূরত্ব, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও শোধনাগার বাধ্যতামূলক; কিন্তু জাকিয়া এন্টারপ্রাইজে এর কোনোটিই নেই। বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্প দ্রুত বাড়লেও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় নুরুজ্জামান বলেন, ‘দরজা লাগালেও গন্ধ ঢুকে পড়ে; শিশুদের হাঁপানি বেড়ে গেছে।’ ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মালিক ব্যবস্থা নেননি। জাহিদ হাসান অবশ্য দাবি করেন, ‘কাউকে ক্ষতি করবো না, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি আনছি, রাস্তাও মেরামত করব।’ তবে তিনি এর আগে সময়সীমা দিয়েও তা মানেননি বলে জানান গ্রামবাসী। ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রনি ‘রয়টার্স’-কে বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না; সোমবারই পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ে স্থল পরিদর্শনে যাব।’ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরও নমুনা মাটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছে।

এরপর কী

পরিবেশ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, খামারটি বন্ধ করে জরিমানা, এমনকি ছয় মাসের কারাদণ্ড পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঠের গুঁড়ির সঙ্গে বিষ্ঠা মিশিয়ে বায়োগ্যাস বা জৈব সার তৈরি করলে দূষণ হ্রাস ও অতিরিক্ত আয়—দুটিই সম্ভব। সঠিক নির্দেশনা পেলে স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে ছোট ‘কম্পোস্টিং ইউনিট’ ও ড্রেনেজ উন্নয়নও করা যায়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শিগগিরই নজরদারি বাড়লে ফসল বাঁচবে ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে; আর ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে খামারও টেকসই হবে।

More From Author

জাপানের কুমামোতোতে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, ৩০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে নির্দেশ

খুলনা সিটি করপোরেশনের গৃহকর আদায়ে রেকর্ড, লক্ষ্যের ১০৪ শতাংশ অর্জন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *